মশার কামড়ে জার্মানিতে বিমানবন্দরের দুই কর্মীর মৃত্যু

মশার কামড়ে জার্মানিতে বিমানবন্দরের দুই কর্মীর মৃত্যু

ফাইল ছবি।

কোনও দিন ম্যালেরিয়াপ্রবণ দেশ সফরে যাননি, তবুও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের দুই কর্মী।বিমানে চেপে আফ্রিকা বা অন্য কোনও দূরদেশ থেকে আসা সংক্রমিত মশার কামড়েই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ করছেন চিকিৎসকরা। দুর্লভ ও বিরল এই ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছে জার্মানির রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই)।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি বিমানবন্দরটির ছয়জন পুরুষ কর্মী সবচেয়ে মারাত্মক ধরনের ম্যালেরিয়া ট্রপিকাতে আক্রান্ত হন। ফ্রাঙ্কফুর্ট নগর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত জুলাইয়ের শুরুতে প্রথম কর্মীটির মৃত্যুর পর পরীক্ষায় ম্যালেরিয়া ধরা পড়ে। পরে আগস্টে দ্বিতীয় কর্মীর মৃত্যু হয়। বাকি চারজন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ উঠছেন।

চিকিৎসকদের মতে, ভ্রমণের কোনও ইতিহাস না থাকায় সাধারণ এলাকায় ম্যালেরিয়া সহজে শনাক্ত করা যায় না। ফলে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়ে রোগীর অবস্থা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। ১৯৫০-এর দশকের পর জার্মানিতে এমন স্থানীয়ভাবে অর্জিত ম্যালেরিয়ার ঘটনা ঘটে না বললেই চলে। চিকিৎসার ভাষায় বিমানে চেপে আসা মশার মাধ্যমে এ ধরনের বিরল সংক্রমণকে ‘এয়ারপোর্ট ম্যালেরিয়া’ বলা হয়।

ঘটনার পর গত বছর প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ যাত্রী ওঠানামা করা এই বিমানবন্দরজুড়ে মশা ধরার বিশেষ ফাঁদ বসানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মীদের জ্বর, শীত শীত ভাব, মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা বমি ভাব দেখা দিলেই অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফাঁদে আটক হওয়া মশাদের বেলজিয়ামের ট্রপিক্যাল মেডিসিন ইনস্টিটিউটে জিনগত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা সম্ভব হবে মশাদের প্রজাতি ও সম্ভাব্য উৎস এবং এই সংক্রমণ কি একটি মশার মাধ্যমে হয়েছে নাকি একাধিক মশার কামড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে সংক্রামিত প্লাজমোডিয়াম পরজীবীর মাধ্যমে ম্যালেরিয়া ছড়ায়, যা সরাসরি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে না। ম্যালেরিয়া নিরাময়যোগ্য হলেও সময়মতো রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি।