গাজীপুরে নিখোঁজের পর নিহতের কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেফতার ২
প্রতিকি ছবি
গাজীপুরে নিখোঁজের ২৭ দিন পর সৌরভ আহমেদের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, মো. রবিউল ইসলাম ও মো. শাহিন।
পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে সৌরভ আহমেদ (২০) নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মা মোছা: কাকলী বেগম জিএমপির সদর থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেন। ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা এস আই দীপঙ্কর দত্ত তদন্তে কিছু রহস্যজনক তথ্য পান। পরে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও পারিবারিক বিরোধের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে তার মা বাদী হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলা করেন।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাদারীপুর জেলার টেকেরহাট ও সাতক্ষীরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া মো. শাহিনকে রাজৈর থানার টেকেরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত সৌরভ ছিলেন রবিউল ইসলামের শ্যালক। প্রায় চার বছর আগে সৌরভের ছোট বোন নুপুরের সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। তাদের একটি দুই বছর বয়সী সন্তানও রয়েছে। পরবর্তীতে নুপুরের সঙ্গে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন রবিউল। এর জের ধরে তিনি শাহিনের সঙ্গে পরামর্শ করে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ আগস্ট সৌরভকে কৌশলে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার চুক্তি দেওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য ও জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সৌরভকে মাদারীপুরের রাজৈর থানাধীন হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবার কাছে নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে একাধিক টুকরো করে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ও শাহিনের দেখানো মতে ওই ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে মোট চারজন অংশ নিয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।