মুমিনের চরিত্রে থাকতে পারে না যে ৪ স্বভাব
সংগৃহীত ছবি
বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, যার মধ্যে চারটি স্বভাব থাকবে, সে হলো মুনাফিক। আর যার মধ্যে একটি স্বভাবও অবশিষ্ট থাকবে, সে তা থেকে মুক্ত হওয়া পর্যন্ত মুনাফিক হিসেবেই গণ্য থাকবে।
নিফাকির আলামত হলো, এক. তার কাছে আমানত রাখা হলে, সে খিয়ানত করে। দুই. কথা বললে মিথ্যা বলে। তিন. অঙ্গীকার করলে ওয়াদার খেলাফ করে। চার. ঝগড়া করলে গালাগাল করে।
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২১০)
হাদিসের শিক্ষা ও বিধান
১. আমানতের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। কারও কাছে কোনো সম্পদ, গোপন কথা, দায়িত্ব বা অধিকার ন্যস্ত করা হলে তা যথাযথভাবে রক্ষা করা মুমিনের দায়িত্ব। আমানতে খিয়ানত করা মুনাফিকির অন্যতম আলামত।
২. সবসময় সত্য কথা বলতে হবে।
মিথ্যা বলা শুধু একটি নৈতিক দুর্বলতা নয়; এটি মুনাফিকির চরিত্র। তাই লাভ-ক্ষতি, ভয়-লজ্জা কিংবা কোনো পরিস্থিতিতেই মিথ্যাকে অভ্যাসে পরিণত করা যাবে না।
৩. প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। কথা দেওয়ার আগে চিন্তা করা এবং কথা দিলে তা পূরণ করার চেষ্টা করা উচিত। ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকির আলামত।
৪. ঝগড়ার সময়ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে। মানুষের প্রকৃত চরিত্র অনেক সময় রাগ ও বিরোধের মুহূর্তে প্রকাশ পায়। মতবিরোধ হলেও গালাগাল, অপমান, কটূক্তি ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫. একটি খারাপ স্বভাবকেও ছোট করে দেখা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন—কারও মধ্যে এসব স্বভাবের একটি থাকলেও তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকির একটি বৈশিষ্ট্য থেকে যায়। তাই ‘আমি তো সবগুলো করি না’—এমন আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই।
৬. নিজের হিসাব নিজেকেই নিতে হবে। এই হাদিস অন্যকে ‘মুনাফিক’ আখ্যা দেওয়ার জন্য নয়; বরং নিজের চরিত্র পরীক্ষা করার জন্য। প্রত্যেক মুসলিমের উচিত নিজেকে প্রশ্ন করা—আমি কি আমানতে খিয়ানত করি? মিথ্যা বলি? ওয়াদা ভঙ্গ করি? ঝগড়ার সময় অশালীন হয়ে যাই?
একজন সত্যিকারের মুমিন শুধু নামাজ-রোজায় নয়, তার কথাবার্তা, ওয়াদা, আমানত ও আচরণেও ইসলামের সৌন্দর্য প্রকাশ করবে। তাই মুনাফিকির আলামত থেকে বাঁচার অন্যতম পথ হলো—আমানতদারিতা, সত্যবাদিতা, প্রতিশ্রুতি পালন ও উত্তম চরিত্র অবলম্বন করা।