আর কোনো বিশ্বজিৎ যেন হামলার শিকার না হয় : রাশেদ খাঁন

আর কোনো বিশ্বজিৎ যেন হামলার শিকার না হয় : রাশেদ খাঁন

ফাইল ছবি

ভবিষ্যতে আর কোনো বিশ্বজিৎ যেন নৃশংস হামলার শিকার না হয় এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।

(শুক্রবার) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩ উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, 'হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হলেও তাঁর জীবন, দর্শন ও শিক্ষা আজও সমাজে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষের প্রকৃত পরিচয় বংশপরিচয়ে নয়; বরং কর্মের মধ্য দিয়েই তার মর্যাদা ও অবস্থান নির্ধারিত হয়। তাঁর আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'সব ধর্মের মূল শিক্ষা শান্তি, শৃঙ্খলা, মানবতা ও সম্প্রীতি। কোনো নাগরিক যেন ধর্মীয় পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।'

তিনি বলেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়েছিল। আমরা চাই না, ভবিষ্যতে আর কোনো বিশ্বজিৎ এ ধরনের নৃশংস হামলার শিকার হোক।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্‌দীন জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আচার-অনুষ্ঠান ভিন্ন হলেও শান্তি, মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য অভিন্ন। শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন থেকে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার শিক্ষা পাওয়া যায়।

এর আগে দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পূজা, জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু হয়ে ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী উৎসবের কর্মসূচি শেষ হয়।