কুষ্টিয়ায় বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ

কুষ্টিয়ায় বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ

সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তারা সবাই বিএনপির কর্মী-সমর্থক বলে জানা গেছে।

এসময় উভয় গ্রুপের লোকজন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শোডাউন করে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরপর একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ছয়জন গুরুতর আহত হন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মন্ডল গ্রুপের প্রধান ওয়াসিম মন্ডল, তুষার মন্ডল ও বেল্লাল হোসেন এবং সরদার গ্রুপের প্রধান লিটন সরদার, কামাল সরদার ও সুমন সরদার। এদের মধ্যে তিনজনই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনাবাদ এলাকায় মন্ডল ও সরদার পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য কয়েক দফা সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় হোসেনাবাদ বাজারে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসময় দুই পক্ষের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

এদিকে সংঘর্ষের কারণে প্রাগপুর-ভেড়ামারা প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা বলেন, তারা সবাই আমাদের দলের লোকজন। তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার আমি দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। তবে সালিশ বৈঠকে পুরোপুরি সমাধান হয়নি। আজ শুনছি, তারা দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, হোসেনাবাদ বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনায় জড়িতদের এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। তারা সবাই পলাতক রয়েছে।