বেরোবিতে মিডটার্ম পরীক্ষায় অনুপস্থিতিতে জরিমানার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

বেরোবিতে মিডটার্ম পরীক্ষায় অনুপস্থিতিতে জরিমানার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

ফাইল ছবি

অসুস্থতার কারণে মিড সেমিস্টার পরীক্ষায় অনুপস্থিত হলে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীদের এখন থেকে গুনতে হবে জরিমানা। স্নাতক পর্যায়ে ১ হাজার ২০০ এবং স্নাতকোত্তরে ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানার এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন ২০২৬ অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ৫৭তম সভার সুপারিশের ভিত্তিতে ৩০ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

সিদ্ধান্তে জানানো হয়, কোনো পরীক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে মিড সেমিস্টার পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে, এ ক্ষেত্রে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব ধরনের ব্যয় নির্বাহের শর্তে স্নাতক (সম্মান) শিক্ষার্থীর জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা প্রচলিত নিয়মে জমা দিতে হবে।

এছাড়া, পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষক যথানিয়মে পারিতোষিক বিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার পারিতোষিক বিল পাবেন। গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তকে অদূরদর্শী উল্লেখ করে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়াশোনা করে, তাদের বেশিরভাগ তো নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছে। তাহলে এই জরিমানা তাদের কাছে নেয়া কি যৌক্তিক? অসুস্থতা তো কারো হাতে থাকে না। কেউ অসুস্থ হলে তার থেকে ১২০০, ১৫০০ টাকা জরিমানা করা, এটা প্রশাসনের অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছু না।”

জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নেজাজ আহমেদ বলেন, “৮ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে কারো না কারো অসুস্থতা, বিপদ বা পারিবারিক সমস্যা থাকতেই পারে। সবার আর্থিক সক্ষমতাও এক নয়। তাই মিডটার্মকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত টাকা বা জরিমানা চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এমন প্রহসনমূলক নীতি মেনে নেওয়া হবে না। অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব নীতি প্রণয়ন করতে হবে।”

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তুহিন রানা বলেন, “প্রশাসনের প্রহসন সিদ্ধান্ত কে ধিক্কার জানাই। এ সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কোনোভাবে যুক্তিসঙ্গত নয়। সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এ সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ চিন্তা করে এ সিদ্ধান্ত যেন প্রত্যাহার করা হয়। তাছাড়াও এত টাকা না করে নামমাত্র ফি করা যেতো।”

তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান বলেন, “জরিমানাটা আসলে মুখ্য বিষয় না। কারণে অকারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিডটার্ম পরীক্ষা প্রবণতা বেড়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা যে পরিমাণে মিডটার্ম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে না সেই পরিমাণে ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার প্রবণতা নাই।”