'তালেবানের অধীনে সব আফগান নিরাপদ'

'তালেবানের অধীনে সব আফগান নিরাপদ'

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত তালেবান নেতা খলিলুর রহমান হাক্কানি

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত তালেবান নেতা খলিলুর রহমান হাক্কানি বলেছেন, তালেবানের অধীনে সব আফগান নিরাপদ। আফগানিস্তানের সব নাগরিকের উচিত তালেবানের নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাবোধ করা।

রোববার কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার সাথে সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি।

খলিলুর রহমান হাক্কানি বলেন, আফগানিস্তানে চার দশকের যুদ্ধের পর তালেবান বর্তমানে দেশে শৃঙ্খলা স্থাপন ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে কাজ করছে।

তবে অনেক আফগানই এখনো তালেবানের পূর্বের কঠোর শাসনের কথা স্মরণ করে শঙ্কিত রয়েছে। এই শঙ্কা থেকেই আফগানিস্তান ছাড়তে কাবুল বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছে বিপুল আফগান।

হাক্কানিকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, জনগণের উচিত নয় তালেবানকে ভয় করা।

হাক্কানি বলেন, 'আমাদের শত্রুতা ছিলো দখলদারদের সাথে। আগে এক পরাশক্তি বাইরে থেকে এসে আমাদের বিভক্ত করেছিলো। তারা আমাদের যুদ্ধে বাধ্য করেছিলো। আমাদের কারো সাথেই শত্রুতা নেই, আমরা সবাই আফগান।'

সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সাথে সরকার গঠনে আলোচনার দিকে ইঙ্গিত করে হাক্কানি বলেন, 'কারজাই আমাদের সাথে ১৩ বছর সংঘর্ষে ছিলেন। কিন্তু শেষে আমরা তাকেো তার নিরাপত্তার জন্য আশ্বস্ত করেছি।'

পাশাপাশি পাঞ্জশিরে তালেবানের প্রতিরোধে দাঁড়ানো তাজিক নেতা আহমদ মাসুদের সাথে সমঝোতায় আলোচনার জন্য হামিদ কারজাই ও হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকন্সাইলেশনের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহকে অনুমোদন দিয়েছে তালেবান কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিকেও নিরাপত্তার আশ্বাসে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পর আশরাফ গনি এক ফেসবুক বার্তায় জানিয়েছিলেন, তার নিরাপত্তা কর্মীদের সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে রক্তপাত এড়াতে ও নিজের নিরাপত্তায় তিনি দেশ ছেড়েছেন।

হাক্কানি এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, 'যারাই দেশ ছেড়েছে, তাদের নিরাপত্তার জন্য আমরা আশ্বস্ত করছি। আপনারা সকলেই আফগানিস্তানে ফেরার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।'

অপরদিকে আফগানিস্তান ছাড়তে মরিয়া নাগরিকদের দেশে থাকার আহ্বান জানিয়ে হাক্কানি বলেন, তাদের উচিত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ায় সহায়তা করা।

খলিলুর রহমান হাক্কানি বলেন, 'আমরা বাইরের কাউকে দিয়ে আফগানিস্তান গঠন করতে পারবো না।'

তিনি বলেন, 'বিদেশীরা আমাদের জন্য দেশ গড়তে পারে না। তারা শুধু বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।'

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার জেরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় মার্কিন বাহিনী। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রসজ্জ্বিত মার্কিন সৈন্যদের হামলায় আফগানিস্তানের তৎকালীন তালেবান সরকার পিছু হটে।

তবে একটানা দুই দশক যুদ্ধ চলে দেশটিতে।

দীর্ঘ দুই দশক আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়।

এই বছরের মে মাসে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এপ্রিলে এক ঘোষণায় ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা জানান। পরে জুলাই সময়সীমা আরো কমিয়ে এনে ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি।

মার্কিনিদের সাথে চুক্তি অনুসারে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারের সাথে তালেবানের সমঝোতায় আসার কথা থাকলে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। সমঝোতায় না পৌঁছানোর জেরে তালেবান আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু করে।

৬ আগস্ট প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় নিমরোজ প্রদেশের রাজধানী যারানজ দখল করে তারা। যারানজ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ১০ দিনের মাথায় ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে তালেবান যোদ্ধারা।

সূত্র : আলজাজিরা