শীতে দাঁতের সমস্যা
শীতে দাঁতের সমস্যা
শীতকালে অন্যান্য রোগের প্রকোপের পাশাপাশি বাড়ে দাঁতের শিরশির ব্যথাও। যারা ভুক্তভোগী, তারাই এর কষ্টটা বোঝেন। এ সময় ঠাণ্ডা পানি খেলে বা কুলকুচা করলে অনেকের দাঁত শিরশির করে। যাদের এ সমস্যা হচ্ছে, ধরে নিতে হবে তাদের দাঁতে একটু হলেও সমস্যা আছে। অনেক সময়ই দাঁত শিরশির করা বেশ কিছু রোগের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমনটি বোধ হলে চিকিৎসকের কাছে চেকআপ করিয়ে নিতে হবে।
তবে এ-ও মনে রাখতে হবে যে শীতকালে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার শিরশির করা দাঁতের স্বাভাবিক অবস্থার প্রকাশ। বাইরে যতই ঠাণ্ডা থাকুক, মুখের ভেতরের তাপমাত্রা সব সময় ৯৮.৪ ডিগ্রি বা তার কাছাকাছি থাকে। তাই ঠাণ্ডাজাতীয় কিছু মুখে দিলে আকস্মিক তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় দাঁত শিরশির করে।
অনেকে খুব জোর দিয়ে বা বেশি সময় ধরে ব্রাশ করেন। এতে দাঁতের মাড়ি সরে যায় বা দাঁতের গোড়ার দিকে ক্ষয়ে যায়। এমন অবস্থায়ও শিরশির করে। অনেকের মাড়িতে পাথরের মতো জমে থাকে বা দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে মাংসজাতীয় খাবার আটকে থাকে। টুথপিক দিয়ে খুঁচিয়ে ওই সব খাবার বের করতে গিয়ে পকেটের মতো হয়। এসব কারণেও শীতকালে পানি লাগলে দাঁত শিরশির করে।
বেশির ভাগ দাঁতের অসুখে প্রথমে শিরশির অনুভূতি দিয়ে লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন ক্যারিজ বা ক্ষত। দাঁতে ক্যারিজ বা ক্ষত হলে প্রথম দিকে ব্যথা হয় না। দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় না কিংবা দাঁত ভেঙে যায় না। প্রথমে পানি খেলে শিরশির করে, টক খেলে দাঁত টক হয়ে যায়, মিষ্টি খেলে অস্বস্তি হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় হাইপারেমিয়া। এই অবস্থায় চিকিৎসা করা না হলে অবস্থা অ্যাকিউট পাল্পাইটিসের দিকে যায়।
তখন ঠাণ্ডা বা গরম পানি খেলে তীব্র ব্যথার অনুভূতি হয়; বিশেষ করে রাতে অসহ্য ব্যথা হয়। এই অবস্থায়ও চিকিৎসা না করা হলে দাঁতের পাল্প আক্রান্ত হয়ে ক্রনিক পাল্পাইটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনটি হলে সাধারণত ব্যথা তীব্র হয় না। যদি ব্যথা হয়, তবে অনেক সময় ঠাণ্ডা পানিতে ব্যথা না বেড়ে বরং কমে যায়।
মুক্তির উপায় : শীতে হঠাৎ করে দাঁতের সমস্যা শুরু হলে তা থেকে উত্তরণের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। দাঁত মাজার ক্ষেত্রে শক্ত ব্রাশের পরিবর্তে নরম ব্রাশ ব্যবহার করা। দাঁতের দাগ দূর করতে পারে এ রকম টুথপেস্ট ব্যবহার বাদ দেয়া। পাশাপাশি দাগ তোলার জন্য বিভিন্ন উপাদান, যেমন অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড বা ক্যালসিয়াম পাইরোফসফেট আছে এ রকম টুথপেস্ট ব্যবহার না করা।
সংবেদনশীল বা ‘সেনসিটিভি’ দাঁতের জন্য তৈরি বিশেষ টুথপেস্ট বাজারে পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। অনেকের মাড়ি খোঁচানোর অভ্যাস থাকে। এ রকম অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর সময় ‘মাউথগার্ড’ ব্যবহার করতে হবে। দাঁতের সংবেদনশীলতা বাড়ায় এ রকম খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। যেমন ভিনেগারে চুবানো খাবার, ফল, জুস, আইসক্রিম ও কোমল পানীয়।