আবারো ইবি ছাত্রলীগ সভাপতির অডিও ভাইরাল

আবারো ইবি ছাত্রলীগ সভাপতির অডিও ভাইরাল

ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত

ফের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের কন্ঠসদৃশ নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। সোমবার (২৭ নভেম্বর) রাতে ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে ৭ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ে।

এই নিয়ে তার ষষ্ঠ অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। তবে সর্বশেষ ওই অডিওর কথপোকথনে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিবহন প্রশাসক জড়িত রয়েছেন বলে ওই অডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে।

ওই অডিও ক্লিপের ক্যাপশনে লেখা হয়, সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে সভাপতি বললেন ‘টাকাও নিয়ে আসতে পারবা না, সমাধানও দিবে না। আমি বলে চুপ করে আছি।’ এছাড়া তার নিচে ক্যাপশনে ড. আনোয়ারকে (?) মধ্যস্ততাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ওই অডিও কথোপকথন বলা হয়, হারুনকে ফোন দিছিলাম কিন্তু পা এক্সিডেন্ট করছে‌ কয়েকদিন আগে। গত চার পাঁচ দিন আগে .. মনে করেন যে..ও তো ঢাকায়.. ঢাকায় গেছিলাম দেখে আসলাম.. টাকাও নিয়ে আসতে পারে না সমাধানও করে না.. এই মুহূর্তে মনে করেন যে আমি বলে চুপ করে আছি। কয় আমার কি পোলা তো চিনে.. এ কাজের ভিতরে যাইতে দেয়  নাকি? তবে সমস্যা নেই দেরি হচ্ছে ঠিক আছে আমার তো জ্বালা যন্ত্রণা সব চারিদিকে.. ঢাকায় যাওয়া যায় তারপর আমি বলবো.. আপনার ভাই ঢাকায় গেল.. টাকা দরকার দিতে হবে। তো বললো ৫০ হাজার দিবে কিন্তু এখনও তো ৫০ হাজারের কিছুই দিলো না.. পঞ্চাশ হাজার দিবে। আমি আপনারে একটা নাম্বার দিচ্ছি আপনি এক মিনিট পরে ফোন দিয়েন।

এদিকে ৪ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের আরেক অডিও ক্লিপে নিয়োগপ্রাপ্ত ড্রাইভার মিলনকে (?) আরাফাত (?) বলেন, ‘কি বলব? আমার ভেতরে বড় ব্যথা। আমি করবটা কি? ভাই বুঝি না ভাই, ভাই ফোন দিলাম, আপনার কি হইল ভাই? ফোনে বলেন। আমরা যে কি করলাম ভুলে গেলেন আপনি? আমার ক্ষমতা আছে কি না?’ আপনার এক মিনিট বোঝা দরকার, আমার কোনো সমস্যা হলে ওর বাঁধবে না। তার ঠ্যাকা না, এই জিনিসটা বুঝার আগে আপনি একবারও ভাবলেন না কেন ? আপনি আমারে বললেন না কেন ভাই? একবার চিন্তা করা উচিত! কোন অবস্থায় আছি না আছি, একটা ভাগও কোনো দিক থেকে...... আপনারে আমি রাতের পর রাত কল দিই। আপনি কি এক জায়গার কথা ভুলে গেলেন এত দ্রুত? আমাদের সঙ্গে দেখা করেন।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ও ক্যাম্পাসের পরিবেশকে নষ্ট করার জন্য এই অডিওগুলো তৈরী করা। এগুলো সত্য নয়। থানায় জিডি করা হয়েছে। প্রশাসনিক ভাবে খুঁজে বের করা হচ্ছে কারা এর সাথে জড়িত।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ওই অডিওর সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। ইবি থানায় জিডিও করা হয়েছে। জিডির বিষয়টি ইবি থানা থেকে কুষ্টিয়া সাইবারে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা বিষয়টা নিয়ে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছি।

এ বিষয়ে পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, যাদের রুচিবোধ নেই এবং যারা ক্যাম্পাসে আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে এটা তাদের ঘৃন্য মানসিকতা। আইনে পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অথোরিটি বা আরও যারা আছেন তাদের সাথে কথা বলে দেখবো।

উল্লেখ্য, এর আগেও শাখা ছাত্রলীগ সভাপতির ড্রাইভার নিয়োগ বাণিজ্যের একাধিক অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে নিয়োগপ্রাপ্ত ড্রাইভার মিলনের থেকে চুক্তিকৃত ২০ লাখ টাকা নিতে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতিকে চাপ দিতে শোনা যায়। এছাড়া অন্য এক চাকরি প্রত্যাশির কাছে ১০ লাখ টাকা দাবিসহ সভাপতি-সম্পাদকের মধ্যে নিয়োগের টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারার কথা বলতে শোনা যায়।