খাগড়াছড়িতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত ৭৯
সংগৃহীত
খাগড়াছড়িতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২৪ দিনে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগে আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ৮১ জন। ফলে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর খাগড়াছড়িতে এখন পর্যন্ত ২১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন এবং দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এরমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাই-বোনছড়া এলাকার অনন্ত ত্রিপুরা (৪৫)। হৃদ্রোগের বিভিন্ন সমস্যার কারণে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর তিনি খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রিপল বাপ্পি চাকমা বলেন, অনন্ত ত্রিপুরা মূলত হৃদ্রোগী ছিলেন। হার্টের বাল্বের সমস্যার চিকিৎসা নিতে ঢাকায় গিয়ে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের একটি বড় অংশ মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসছেন। এছাড়া অনেক রোগী জেলার বাইরে গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পরে খাগড়াছড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চলতি মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা। তিনি বলেন, ডেঙ্গু শনাক্তের পরীক্ষার কিট, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও স্যালাইন পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কারও জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের কেউ কেউ জেলার বাইরে অবস্থানকালে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।
পানছড়ির লোগাং এলাকার কাজী মো. নাসির উদ্দীন জানান, তিনি রাঙামাটিতে চাকরি করেন। জ্বর হওয়ার পর বাড়িতে ফিরে রক্ত পরীক্ষা করান। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ বছর বয়সী ফয়সাল ঢাকায় চাকরি করেন। তার মা জানান, রোববার তার জ্বর আসে। জ্বরের তীব্রতা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি ছিল। পরে রাতের গাড়িতে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সোমবার মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে ডেঙ্গু সনাক্ত হয়। পরে তাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো জরুরি। একই সঙ্গে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।