জেনে নিন গর্ভাবস্থায় কফি পান করা কি নিরাপদ?

জেনে নিন গর্ভাবস্থায় কফি পান করা কি নিরাপদ?

ফাইল ছবি।

সকালের ঘুমঘুম ভাব কাটাতে এক কাপ কফি অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু গর্ভাবস্থায় সেই অভ্যাস নিয়েই তৈরি হয় নানা প্রশ্ন।বিশেষ করে কফিতে থাকা ক্যাফেইন নিয়ে হবু মায়েদের দুশ্চিন্তা থাকে-কফি কি একেবারেই বাদ দিতে হবে? নাকি পরিমিত পরিমাণে পান করা যায়?

অনেকেই মনে করেন, গর্ভাবস্থায় কফি মানেই ঝুঁকি। তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, অন্তঃসত্ত্বা হলে কফি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সারাদিনে মোট কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করছেন, সেদিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে। গর্ভাবস্থায় দিনে সর্বোচ্চ ২০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণের সীমা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গর্ভাবস্থায় কফি পান 

এক কাপ কফিতে কতটা ক্যাফেইন রয়েছে, তা নির্ভর করে কফির ধরন, পরিমাণ, তৈরির পদ্ধতি এবং কফি কতটা গাঢ় তার ওপর। তাই শুধু ‘এক কাপ কফি’ বলেই ক্যাফেইনের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না।

আর একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি-দিনের মোট ক্যাফেইনের হিসাব শুধু কফি দিয়ে হবে না। চা, চকলেট, কোলা বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত কোমল পানীয় এবং এনার্জি ড্রিঙ্ক থেকেও ক্যাফেইন শরীরে যায়। ফলে সকালে কফি খাওয়ার পর সারা দিনে চা, চকলেট বা এনার্জি ড্রিঙ্ক গ্রহণ করলে মোট পরিমাণ ২০০ মিলিগ্রাম ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কোন কফিতে কতটা ক্যাফেইন?

কফির ধরনভেদে ক্যাফেইনের পরিমাণে বেশ পার্থক্য থাকে। সাধারণভাবে এক কাপ ইনস্ট্যান্ট কফিতে প্রায় ১০০ মিলিগ্রাম এবং এক কাপ ফিল্টার কফিতে প্রায় ১৪০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে। তবে কফিশপের বড় কাপ বা বিশেষ ধরনের কফিতে পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

আপনার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কোল্ড ব্রুতে প্রায় ১৫০-২৪০ মিলিগ্রাম, ড্রিপ কফিতে ৯৫-১৪০ মিলিগ্রাম, ইনস্ট্যান্ট কফিতে ৩০-৯০ মিলিগ্রাম এবং এসপ্রেসোতে প্রায় ৬৩ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে। লাতে বা ক্যাপুচিনোর ক্ষেত্রেও এসপ্রেসোর শটের ওপর ভিত্তি করে ক্যাফেইনের পরিমাণ বদলায়।

তবে এসব সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। ব্র্যান্ড, কাপের আকার ও তৈরির পদ্ধতি অনুযায়ী ক্যাফেইনের পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। তাই কফিশপে বড় আকারের কফি বা অতিরিক্ত এসপ্রেসো শট নেওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি।

অতিরিক্ত ক্যাফেইনে ঝুঁকি কেন?

গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ নিয়ে সতর্ক থাকার অন্যতম কারণ হলো এটি গর্ভপাতের ঝুঁকি এবং শিশুর কম ওজন নিয়ে জন্মানোর সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ক্যাফেইন প্লাসেন্টা অতিক্রম করে ভ্রূণের কাছে পৌঁছাতে পারে। তাই বেশি পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ না করে নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যাফেতে কফি অর্ডার করার সময় যা খেয়াল রাখবেন

কফিশপে গেলে বড় কাপের বদলে ছোট আকারের কফি বেছে নিতে পারেন। অতিরিক্ত এসপ্রেসো শট যোগ করার অভ্যাসও এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ কাপের আকার ও কফির ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে ক্যাফেইনের পরিমাণও বাড়তে পারে।

এছাড়া কফিতে অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি সিরাপ, ক্যারামেল বা হুইপড ক্রিম যোগ করলে পানীয়টির চিনি ও ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত এমন কফি পান না করাই ভালো।

ডিক্যাফ কি ভালো বিকল্প?

যারা কফির স্বাদ ও গন্ধ পছন্দ করেন, কিন্তু ক্যাফেইন কমাতে চান, তারা ডিক্যাফ কফি বেছে নিতে পারেন।

গর্ভাবস্থায় কফি নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমাণের দিকে নজর রাখুন, সারা দিনের সব ক্যাফেইনের উৎস হিসাব করুন এবং কফির আকার ও ধরন বেছে নেওয়ার সময় একটু সচেতন থাকুন। বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা বা চিকিৎসাজনিত ঝুঁকি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যাফেইন গ্রহণ করুন।