তিতাস নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার
প্রতিকি ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে নিখোঁজের প্রায় এক সপ্তাহ পর তিতাস নদী থেকে মুকবুল হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার মিরপুর এলাকায় তিতাস নদীর পানির তলদেশ থেকে নৌকার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দলের সদস্যরা।
মুকবুল হোসেন উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের পাঠামারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিতাস নদীতে বালু উত্তোলনের একটি ড্রেজার ব্যবসার অংশীদার ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার পর ড্রেজার থেকে নিখোঁজ হন মুকবুল। এরপর স্বজন ও স্থানীয়রা নদীসহ আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে এ ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এদিকে একই এলাকায় রুবেল মিয়া নামে আরও একজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে শনিবার রাত ১০টার দিকে তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অসুস্থ অবস্থায় রুবেল মিয়াকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মুকবুলের সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল রোববার সকাল ৮টা থেকে মিরপুর এলাকায় তিতাস নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তল্লাশির পর দুপুর দেড়টার দিকে নদীর পানির তলদেশে নৌকার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মুকবুলের মরদেহের সন্ধান পান ডুবুরিরা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে ডুবুরি আশিক মাহমুদ ও দেলোয়ার হোসাইন উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, ‘মিরপুর এলাকায় তিতাস নদীতে একজনের মরদেহ থাকতে পারে—মডেল থানার এমন তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৮টা থেকে তল্লাশি শুরু করি। দুপুর দেড়টার দিকে পানির তলদেশ থেকে নৌকার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।’
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আবু সাঈদ বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’