ভারতে পানির দামে বিক্রি হবে গ্রাম!
ফাইল ছবি।
গ্রামের প্রবেশপথে টাঙানো বড়সড় একটি ব্যানার।তাতে লেখা, ‘গ্রাম বিক্রি হবে, দাম পানি।’ ব্যানারটি টানিয়েছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার তুলশি গ্রামের বাসিন্দারা।
গ্রামটির জনসংখ্যা প্রায় সাত হাজার। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সেখানে পানির সংকট চলছে। গ্রামের পুকুর ও কূপ শুকিয়ে গেছে। এখন পানির জন্য পুরোপুরি ট্যাংকারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের।
এই সংকট থেকে বাঁচতেই এমন অভিনব প্রতিবাদের ভাষা বেছে নিয়েছেন তুলশি গ্রামের বাসিন্দারা।
২৬ বছরেও শেষ হয়নি সেচ প্রকল্পের কাজ
বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিনা-মাধা লিফট ইরিগেশন প্রকল্পের খাল গ্রামের কাছ দিয়ে গেলেও তারা এর পানি পাচ্ছেন না। প্রকল্পটির আওতায় গ্রামের কাছে প্রায় ৮০০ মিটার খননকাজ ২৬ বছর ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে আছে।
গ্রামবাসীর মতে, এই কাজ শেষ করা হলে দীর্ঘদিনের পানির সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। তুলশি গ্রামের সরপঞ্চ শরদ মোরে বলেন, প্রতিবছরই গ্রামে পানির সংকট দেখা দেয়। সিনা-মাধা প্রকল্পের খাল গ্রামের খুব কাছ দিয়ে গেলেও এর সুবিধা পাওয়া যায় না।
এ অবস্থায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই ‘গ্রাম বিক্রির জন্য, দাম: পানি’ লেখা ব্যানার টাঙানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনশন থেকে থালা বাজিয়ে প্রতিবাদ
পানির দাবিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন শুরু করেন গ্রামের বাসিন্দারা। পরে মাধা তহসিল কার্যালয়ের সামনে থালা-বাসন বাজিয়ে ‘থালি-নাদ’ নামে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন আরও জোরালো করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। শরদ মোরের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
বৃষ্টির ঘাটতিতে সংকট আরও তীব্র
চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় তুলশির পানির সংকট আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। গ্রামে জল জীবন মিশনের আওতায় কিছু কাজও হয়েছে।
তবে স্থানীয় পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়ায় সেগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
তুলশিতে ১৪টি পুকুর ও কূপ পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে বলেও দাবি তাদের। গ্রামবাসীর মতে, এসব জলাধারে পানি সরবরাহ করা গেলে পানীয় ও সেচের সংকট অনেকটাই কমে আসতে পারে।