বগুড়ায় দুই আদালত ভবন যুক্ত হবে তৃতীয় তলায়, নির্মিত হচ্ছে ফুটওভার ব্রিজ
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া জজ আদালত ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের মাঝের ব্যস্ত সড়ক পারাপারে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমতে যাচ্ছে। বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আদালতসংশ্লিষ্টদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য সেখানে নির্মিত হবে বিশেষ ধরনের ফুটওভার ব্রিজ। ভবন দুটির তৃতীয় তলা সরাসরি যুক্ত হবে এই সেতুর মাধ্যমে।
রবিবার বিকেলে প্রস্তাবিত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন নবনিযুক্ত জেলা ও দায়রা জজ মনিরুজ্জামান, আইনজীবী নেতৃবৃন্দ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীরা।
আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জজ আদালতে যেতে ব্যস্ত সড়কটি পার হতে হয়। এতে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে হয়। সড়ক পার হতে দেরি হওয়ায় অনেক সময় আসামি ও আইনজীবীরা মামলার নির্ধারিত ডাকেও সময়মতো আদালতে উপস্থিত হতে পারেন না।
আইনজীবী আব্দুল ওহাব বলেন, দুই আদালত ভবনের মধ্যে নিরাপদ যোগাযোগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হচ্ছিল। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে বৃষ্টি ও রোদ—দুই পরিস্থিতিতেই নিরাপদে যাতায়াত করা যাবে। সেতুটিতে ছাউনির ব্যবস্থাও থাকবে।
তিনি বলেন, এটি প্রচলিত কোনো ফুটওভার ব্রিজ হবে না। এক আদালত ভবনের তৃতীয় তলা থেকে অন্য ভবনের তৃতীয় তলা পর্যন্ত সরাসরি সংযোগ তৈরি করবে সেতুটি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মাটি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় নকশা প্রণয়নের পর চূড়ান্ত ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। এরপর দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির জন্য ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত অর্থও বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ডিও পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রকল্পটির জন্য ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। আইনজীবী আব্দুল ওহাবের প্রচেষ্টায় বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।
বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, মাটি পরীক্ষা ও চূড়ান্ত নকশার কাজ শেষ করে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে। এরপরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।
প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই আদালত ভবনের মধ্যে বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে ব্যস্ত সড়ক পারাপারে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।