২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিককে বহিষ্কারের হুমকি ব্রিটেনের

২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিককে বহিষ্কারের হুমকি ব্রিটেনের

ছবিঃ রয়টার্স

পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করা হলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে লন্ডনে ইসরায়েলি দূতাবাসের ২৭ কূটনীতিককে সপরিবারে বহিষ্কার করতে পারে ব্রিটেন।সোমবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করা হলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে লন্ডনে ইসরায়েলি দূতাবাসের ২৭ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করতে পারে যুক্তরাজ্য। কনস্যুলেটে বর্তমানে ২৭ জন ব্রিটিশ কূটনীতিক কর্মরত রয়েছেন। ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সাইমন ওয়াল্টার্স গতকাল ব্রিটিশ সরকারের সতর্কবার্তাটি লিখিতভাবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করা হয়।

১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে অঞ্চলটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। এর জেরে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট ৩০ দিনের মধ্যে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।

ওয়াইনেটের প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েলে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এক ইসরায়েলি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত ঠেকাতে ব্রিটিশ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল গত সপ্তাহে গোপনে ইসরায়েল সফর করেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে তিনটি সূত্র। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেও তিনি কনস্যুলেট খোলা রাখার বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা'আর জানিয়েছেন, কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গাজা সহায়তা কেন্দ্র থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে দেওয়া, রামাল্লায় ব্রিটিশ সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ এবং ১২ জন ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি বসতি নিয়ে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞায় ফ্রান্স ও কানাডা যোগ দিলেও তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেয়নি।