রামেবি উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং পিএসকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা।
রামেবির কর্মচারীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ লেখা ব্যানার নিয়ে ৫০-৬০ জন ব্যক্তি স্লোগান দিতে দিতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এসময় তারা জোর করে উপাচার্যের কক্ষে ঢুকে আগে থেকে লিখে আনা একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে তাকে বাধ্য করেন।
উপাচার্য স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। একই কায়দায় উপাচার্যের পিএসকেও পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কর্মচারীরা।
উপাচার্যের পিএস নাজমুল হোসেন বলেন, প্রতিদিনের মতো আমরা অফিসে আসি। তাঁরা আগেও ভিসির পদত্যাগ চেয়ে মানববন্ধন করেছিল। তারা ভিসির সঙ্গে কথা বলতে চান। আমি অনুমতি নেওয়ার কথা বললে তাঁরা আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এরপর তাঁরা ভিসি স্যারের রুমে প্রবেশ করেন।
তিনি বলেন, সেখানে তারা ভিসি স্যারকে চেয়ার থেকে তুলে আবার বসতে বলেন। এরপর আগে থেকে লিখে নিয়ে আসা পদত্যাগপত্রটি স্যারকে দিয়ে বলেন, আপনি এখনই স্বাক্ষর করেন। এরপর তারা আমাকেও স্বাক্ষর করতে বলেন। আমি স্বাক্ষর করতে না চাইলে আমাকে মারধর করা হয়। পরে ভিসি স্যার ও আমার পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে তাঁরা চলে যান।
কর্মচারীরা আরও জানান, উপাচার্যকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার পর তারা অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন। এসময় সিসিটিভি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে দেখতে পায়নি। এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক।
তিনি বলেন, ঘটনাটি আকস্মিক। আমি কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করছিলাম। এর মধ্যেই লোকজন ঢুকে পড়ে। তারা অশালীন আচরণ শুরু করেন। মারমুখী আচরণের কারণে তাদের লিখে নিয়ে আসা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হই।