তাওবার ৪ শর্ত

তাওবার ৪ শর্ত

ফাইল ছবি

মানুষ ভুল করে, গুনাহ করে। তবে গুনাহ হয়ে যাওয়ার পর আল্লাহর দিকে ফিরে আসার দরজা বন্ধ হয়ে যায় না। তাওবা হলো গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং জীবনকে সংশোধনের চেষ্টা করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করো।’ (সুরা হুদ: ৩)

তবে তাওবা শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়ার নাম নয়। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে আলেমরা তাওবার কয়েকটি মৌলিক শর্ত উল্লেখ করেছেন।

১. গুনাহ ছেড়ে দিতে হবে

যে গুনাহ থেকে তাওবা করা হচ্ছে, তা ছেড়ে দিতে হবে। গুনাহের কাজ চালিয়ে গিয়ে শুধু মুখে তাওবা করলে তা আন্তরিক তাওবা হয় না। তাই তাওবার প্রথম শর্তই হলো- গুনাহের পথ থেকে বাস্তবে ফিরে আসা।

২. গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে

তাওবার জন্য নিজের করা গুনাহের প্রতি অন্তরে অনুশোচনা থাকতে হবে। আল্লাহর অবাধ্যতা করার জন্য লজ্জিত হতে হবে এবং নিজের ভুলকে হালকা করে দেখা যাবে না।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘অনুতপ্ত হওয়াই তাওবা।’ (সুনান ইবনে মাজাহ: ৪২৫২)

৩. আর গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে

তাওবার সময় অন্তরে দৃঢ় সিদ্ধান্ত থাকতে হবে যে, ভবিষ্যতে আর ওই গুনাহে ফিরে যাব না। পরে দুর্বলতার কারণে আবার একই গুনাহ হয়ে গেলে নতুন করে তাওবা করতে হবে। তবে তাওবার সময়ই যদি পুনরায় সেই গুনাহ করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে তাওবা আন্তরিক হওয়ার বিষয়টি থাকে না।

৪. মানুষের হক নষ্ট হলে তা আদায় করতে হবে

গুনাহ যদি অন্য মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, অনুতপ্ত হওয়া ও পুনরায় না করার সংকল্পের পাশাপাশি সেই হকও আদায় করতে হবে। কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে নেওয়া হলে তা ফেরত দিতে হবে। কারও ওপর জুলুম করলে তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে অথবা হকদারের কাছ থেকে ক্ষমা নিতে হবে।

কারণ মানুষের হক নষ্ট হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি সেই হকও আদায় করতে হয়।

আল্লাহ তাআলা খাঁটি তাওবার দিকে আহ্বান করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো; খাঁটি তাওবা।’ (সুরা তাহরিম: ৮)