ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের প্রতিবাদে নীলফামারীতে সহস্রাধিক ভোটারের বিক্ষোভ

ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের প্রতিবাদে নীলফামারীতে সহস্রাধিক ভোটারের বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুষনা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন সহস্রাধিক ভোটার। তাদের দাবি, প্রায় ৩০ বছর ধরে তারা ওই বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে আসছেন। কেন্দ্রটি ওয়ার্ডের প্রান্তে শহীদ শরিফুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরিয়ে নেওয়া হলে বয়স্ক ও নারী ভোটারদের দুর্ভোগ বাড়বে।

বুধবার দুপুরে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রামের ভোটাররা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা শহর প্রদক্ষিণ করেন। পরে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন তারা। এ সময় ‘আগের ভোটকেন্দ্র বহাল চাই’, ‘চক্রান্ত রুখে দাও’ ও ‘আমাদের ভোটকেন্দ্র ফিরিয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পুষনা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আটটি গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসব গ্রামের ভোটাররা সহজেই সেখানে গিয়ে ভোট দিয়ে আসছেন। এখন কেন্দ্রটি পরিবর্তন করে শহীদ শরিফুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কেন্দ্রটি আগের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে।

বক্তারা আরও বলেন, শহীদ শরিফুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ওয়ার্ডের একেবারে প্রান্তে অবস্থিত। সেখানে যাওয়ার রাস্তাঘাটও ভালো নয়। বর্ষাকালে রাস্তায় কাদা জমে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এতে বয়স্ক নারী-পুরুষ ও অসুস্থ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতে ভোগান্তি হবে।

দক্ষিণ পুষনা গ্রামের আনারুল ইসলাম বলেন, ‘৩০ বছর ধরে আমরা পুষনা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে আসছি। কেন্দ্রটি আটটি গ্রামের মাঝামাঝি হওয়ায় সবার যাতায়াত সহজ। এটি সরিয়ে নেওয়া হলে সাধারণ ভোটারদের দুর্ভোগ বাড়বে।’

মানববন্ধনে ছকিরবাজারের মিলু মিয়া ও রফিকুল ইসলাম, পুষনা গ্রামের হাসমত আলী ও ইউনুছ আলী এবং জামায়াত নেতা ওয়ারেজ আলী বক্তব্য দেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের প্রস্তাব বাতিল করে আগের কেন্দ্রটি বহাল রাখতে হবে। অন্যথায় তারা আরও বড় কর্মসূচি পালন করবেন।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম মওলা লিটন মিয়া বলেন, তিনি কয়েক মাস আগে এ উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। তাই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। তাঁর কাছে এখনো ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের কোনো কাগজপত্র আসেনি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবীর সরকার বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। প্রাথমিকভাবে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করে পুষনা শহীদ শরিফুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ওই ওয়ার্ডের ভোটাররা যে কেন্দ্র চান, সেটি বিবেচনায় নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।