আসন্ন নির্বাচনে যেসব কারণে হেরে যেতে পারেন নেতানিয়াহু

আসন্ন নির্বাচনে যেসব কারণে হেরে যেতে পারেন নেতানিয়াহু

সংগৃহীত ছবি

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। 

বর্তমান নির্বাচনী প্রচারণায় তার প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হামাসের গত ৭ অক্টোবরের হামলার সময়কার শোচনীয় নিরাপত্তা ব্যর্থতা। প্রায় ১,২০০ মানুষের প্রাণহানির ওই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকেই তিনি তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। 

সে সময় দায়িত্বে থাকা দেশের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে একমাত্র নেতানিয়াহুই এখন পর্যন্ত নিজের পদ ধরে রাখতে পেরেছেন, যা বিরোধী দলগুলোর প্রধান ক্ষোভের কারণ। 

এই নির্বাচনে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য পরাজয় ও ক্ষমতা হারানোর পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ কাজ করছে।

প্রথমত, ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় এড়ানোর চেষ্টা এবং স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনে অনীহা প্রকাশের কারণে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেসের সাবেক চিফ অব স্টাফ গাডি আইসেনকট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করাকেই তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পক্ষান্তরে, নেতানিয়াহু দাবি করছেন যে নিরাপত্তা প্রধানরা তাকে সঠিক সময়ে গোয়েন্দা তথ্য দেননি, যা জনমনে আরও বেশি ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। 

দ্বিতীয়ত, জনমত জরিপের ফলাফল তার বর্তমান অবস্থানের বড় অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিগত নির্বাচনে তার দল লিকুদ পার্টি যেখানে ৩২টি আসন পেয়েছিল, সেখানে আসন্ন নির্বাচনে তারা মাত্র ২০ থেকে ২২টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য যেখানে ৬১টি আসনের প্রয়োজন, সেখানে তার মধ্য-ডানপন্থী জোট ৫০ থেকে ৫৪টি আসন পেতে পারে। 

এমনকি আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া বিরোধী দলগুলোর জন্যও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হবে। তবে সার্বিকভাবে নেতানিয়াহুর পক্ষে এককভাবে ক্ষমতা ধরে রাখা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। 

তৃতীয়ত, তার বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতির মামলার বিচারকার্য এই নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি যদি ক্ষমতা হারান, তবে আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার বা তা বিলম্বিত করার ক্ষমতা তার থাকবে না। অন্যদিকে, নির্বাচনে জিতলে তিনি একে জনগণের রায় হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। 

চতুর্থত, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন না দিয়ে বরং ব্যক্তিগতভাবে ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার জন্য তাকেই দায়ী করে বলেছেন যে এতে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। 

ইসরাইলের এই নির্বাচন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত হওয়ায়, মার্কিন কংগ্রেসের ক্ষমতার পালাবদল ঘটলে সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রি নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হবে, তাতে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। 

সূত্র: অ্যাক্সিওস