সামনে এলো ব্যালন ডি’অর কেনার রহস্যময় খামের তথ্য
ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালট ডি’অর। প্রতি বছর জমকালো আয়োজনে বিজয়ীর হাতে যখন জ্বলজ্বলে ট্রফিটি তুলে দেওয়া হয়, বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের চোখ আটকে থাকে সেই সোনালী আলোয়। তবে এই আলো ঝলমলে মঞ্চের আড়ালে লুকিয়ে থাকে কত শত অজানা গল্প, মনস্তাত্ত্বিক খেলা আর পর্দার পেছনের সমীকরণ। দীর্ঘ ৩০ বছর 'ফ্রান্স ফুটবল' সামলানো এবং ব্যালট ডি'অরের মূল কারিগর প্যাসকেল ফেরে সম্প্রতি উম্মোচন করেছেন সেই রুদ্ধদ্বার কক্ষের কিছু রোমাঞ্চকর তথ্য; যেখানে রয়েছে ঘুষের প্রস্তাবের মতো বিস্ফোরক খবর, আবার রয়েছে ট্রফি জেতার শান্ত মুহূর্তে কোনো তারকার আবেগাপ্লুত কান্না কিংবা অবিশ্বাস্য অভিনয়।
স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যাসকেল ফেরে সরাসরি স্বীকার করেছেন তাকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার কথা। ঘটনাটির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, 'এক মনোনীত ফুটবলারের এজেন্ট তাকে রেস্তোরাঁয় খাবারের দাওয়াত দেন। নিজ ক্লায়েন্টের ভূয়সী প্রশংসা করার এক পর্যায়ে সরাসরিই বলে বসেন, ফ্রান্স ফুটবলের জুরিদের কাছে তার ফুটবলারের নাম যেন যেকোনো মূল্যে বিক্রি করা হয়।'
'কথোপকথনের মাঝেই একটি জরুরি ফোন কল রিসিভ করতে টেবিল ছেড়ে সামান্য দূরে যেয়ে থাকি। ফিরে এসে দেখি এজেন্ট ততক্ষণে গায়েব, কিন্তু টেবিলে ফেলে গেছেন একটি রহস্যময় খাম। পেশাদারি জায়গা থেকে খামটি না খুলেই রেস্তোরাঁর রিসেপশনে জমা দিয়ে থাকি।' তবে ঘটনাটি ঠিক কোন বছরের, তা অবশ্য গোপনই রেখেছেন তিনি।
শুধু ঘুষের প্রস্তাবই নয়, বিজয়ী নির্ধারণের পর সরাসরি তারকাদের ফোনে সুখবর দেওয়ার মুহূর্তগুলোও ফেরে মনে রেখেছেন বেশ স্পষ্টভাবেই। ২০১৮ সালে লুকা মদ্রিচকে ফোন করে যখন তার বিজয়ী হওয়ার খবর জানানো হয়, ওপাশ থেকে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এসেছিল। ক্রোয়েশিয়ান তারকা অবিশ্বাস্য খুশিতে বাকরুদ্ধ হয়ে কান্না ধরে রাখতে পারেননি।
অন্যদিকে ২০২২ সালে করিম বেনজেমার প্রতিক্রিয়া ফেরে-কে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছিল। খবর শুনেও বেনজেমা নাকি অদ্ভুতরকম শীতল ও নির্বিকার ছিলেন! তবে কয়েকদিন পর মূল রহস্য খোলাসা করে ফেরে-র কাছে ক্ষমা চেয়ে বেনজেমা বলেন, 'আমি তখন ফিজিওর মেসেজ টেবিলে সতীর্থদের মাঝেই শুয়ে ছিলাম। খবরটি শুনেই চিৎকার করে উঠতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পুরস্কারের গোপনীয়তা বজায় রাখতে সতীর্থদের সামনে নিজেকে শতভাগ শান্ত রাখার কঠিন অভিনয় করতে হয়েছিল।'
আসন্ন ব্যালট ডি’অরকে সামনে রেখে দৌড়ে থাকা হ্যারি কেইন, লামিন ইয়ামাল কিংবা কিলিয়ান এমবাপের মতো আধুনিক তারকাদের অতিরিক্ত আত্মপ্রচার নিয়েও মুখ খুলেছেন ফেরে। ফরাসি পত্রিকা ‘লে পারিসিয়েন’-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি খেলোয়াড়দের অহমিকা ও অতিরিক্ত প্রচার কৌশল নিয়ে সতর্ক করে দেন।
ফেরে বলেন, 'জুরি বোর্ডের ভোটাররা মোটেও নির্বোধ নন। জুরিদের ১০ বা ১৫ বার শোনানোর প্রয়োজন পড়ে না যে কে সেরা ফুটবলার। যখন কোনো ফুটবলার অতিরিক্ত প্রচারের মাধ্যমে জুরিদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তখন তা স্পষ্ট কারসাজি বলে মনে হয় এবং এটি ভোটারদের বিরক্ত করে তোলে।' ফেরে ইঙ্গিত দেন, কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নয়; অযাচিত আত্মপ্রচারের কারণেও হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বর্ষসেরার কাঙ্ক্ষিত এই সোনালী ট্রফি।