দেশের বাজারে এলো হোন্ডার নতুন ডিও স্কুটার
সংগৃহীত
শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও সহজ, আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বাংলাদেশে নতুন ডিও স্কুটার এনেছে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ‘স্মার্ট ভাইব, ইজি রাইড’ স্লোগানে ১১০ সিসির অটোমেটিক গিয়ার সমৃদ্ধ এই স্কুটারটি রাজধানীতে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছে।
হোন্ডার নতুন ডিওতে রয়েছে ১১০ সিসির পিজিএম-এফআই ইঞ্জিন, যা ৮ হাজার ০০০ আরপিএমে ১০ দশমিক ৮২ পিএস শক্তি এবং ৫ হাজার ৫০০ আরপিএমে ৯ দশমিক ০৩ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। এতে অটোমেটিক গিয়ার থাকায় গিয়ার পরিবর্তনের ঝামেলা ছাড়াই চালানো যায় স্কুটারটি।
স্কুটারটিতে রয়েছে আইডলিং স্টপ সিস্টেম (আইএসএস) ও এসিজি সাইলেন্ট স্টার্টার। ফলে যানজটে থামা ও আবার চলার সময় সুবিধা পাওয়া যাবে এবং ইঞ্জিন পুনরায় চালুর সময় শব্দও কম হবে। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে কমবি ব্রেক সিস্টেম (সিবিএস) এবং সাইড স্ট্যান্ড ইঞ্জিন কাট-অফ সিস্টেম।
নতুন ডিও প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুসুমু মরিসাওয়া বলেন, আজ আমরা বাংলাদেশে দুই চাকার যানবাহনের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছি। তরুণদের পাশাপাশি নারী ও পুরুষ এমনকি প্রথমবারের মতো যারা মোটরসাইকেল বা স্কুটার চালাচ্ছেন, তারাও এখন এমন পরিবহন খুঁজছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে যায়। শহরের জন্য আমাদের এই নতুন স্মার্ট পরিবহন সমাধান সহজে চালানো, প্রতিটি যাত্রায় আত্মবিশ্বাস, শহুরে জীবনের প্রয়োজনীয় সুবিধা এবং এখন আরও বেশি নিরাপত্তার মাধ্যমে মানুষের চলাচলকে সহজ করবে।
শহরের যানজটে সহজে চলাচলের কথা বিবেচনা করে স্কুটারটির আসন উচ্চতা ৭৬৫ মিলিমিটার, প্রশস্ত ৬৮০ মিলিমিটার এবং স্কুটির ওজন ১০১ দশমিক ৫ কেজি। এতে টেলিস্কোপিক ফ্রন্ট সাসপেনশন ও ইউনিট সুইং রিয়ার সাসপেনশন রয়েছে।
দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধার জন্য আসনের নিচে রয়েছে ১৮ লিটারের জ্বালানি স্টোরেজ, ওপেন গ্লাভবক্স ও ফ্লোরবোর্ড স্পেস। এছাড়াও মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইস চার্জের জন্য রয়েছে ১৫ ওয়াটের টাইপ-সি চারজিং পোর্ট। সিট না খুলেই জ্বালানি নেওয়ার সুবিধার জন্য রয়েছে এক্সটার্নাল ফুয়েল লিড। নতুন ডিজাইনের সঙ্গে রয়েছে ডিআরএল হেডল্যাম্প।
বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মুহাম্মদ আশেকুর রহমান বলেন, নতুন ডিওতে সহজ নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় সুবিধা ও স্টাইল সবকিছুর সমন্বয় করা হয়েছে। অটোমেটিক গিয়ার, লো সিট হাইট, লাইট ওয়েট এবং কম্প্যাক্ট ডিজাইনের কারণে শহরের যানজটে এটি সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অন্যদিকে পিজিএম-এফআই প্রযুক্তি ও আইডলিং স্টপ সিস্টেম (আইএসএস) জ্বালানি ও খরচ সাশ্রয়ে সহায়তা করে। প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য ডিও একটি স্মার্ট ও আরামদায়ক রাইডিং অভিজ্ঞতা দেবে।
নতুন ডিওর সঙ্গে দুই বছর অথবা ২০ হাজার কিলোমিটার, যেটি আগে হবে, সেই মেয়াদের ওয়ারেন্টি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে পাঁচটি ফ্রি সার্ভিস এবং দুটি পেইড সার্ভিস। ম্যাট মার্ভেল ব্লু মেটালিক, ম্যাট অ্যাক্সিস গ্রে মেটালিক ও ইম্পেরিয়াল রেড মেটালিক এই তিনটি রঙে পাওয়া যাবে নতুন ডিও।
গত ৯ অক্টোবর থেকে সারা দেশে হোন্ডার অনুমোদিত এক্সক্লুসিভ ডিলার শোরুমগুলোতে স্কুটারটি পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশে নতুন হোন্ডা ডিও স্কুটারের বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।