দিনাজপুরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, হাসপাতালে ভর্তি ৩৪
প্রতিকি ছবি
দিনাজপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছেন নারী-পুরুষ। তবে এসব রোগী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুরে চিকিৎসা নিতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এদিকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন অনেক রোগী।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক তিনটি ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রোগীদের মশারির ভেতরে রাখা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে এ হাসপাতালে ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা, গাজীপুর, খুলনা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে তাঁদের ভর্তি করা হচ্ছে। হাসপাতালের জরুরি ও বহির্বিভাগেও জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শরীর ও মাথাব্যথার কারণে অনেকের খাবারে অরুচি দেখা দিচ্ছে। রোগীর স্বজনেরা জানান, তাঁদের আত্মীয়দের মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ঢাকা থেকে দিনাজপুরে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় সন্তুষ্ট বলেও জানান।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ইনচার্জ সাকলাইন সাঈদ সরন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে সঠিক চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। শনিবার হাসপাতালে ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। এসব রোগী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ৬৭৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬২৯ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন দুজন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৫ জন।