সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য রক্ষায় দিনব্যাপী রোডশো

সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য রক্ষায় দিনব্যাপী রোডশো

ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের প্রাচীন স্থাপনা ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে দিনব্যাপী রোডশো অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য রক্ষা করি, প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে ঐক্য গড়ি’ স্লোগানে সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ঐতিহাসিক পানাম নগরী থেকে রোডশোর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, লেখক ও গবেষক ড. আকমল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী পারভীন সুলতানা।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে মতবিনিময় করেন তাঁরা।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কবি ও সংগঠক রহমান মুজিব, লেখক ও সাংবাদিক মিজানুর রহমান এবং সদস্যসচিব লেখক ও সাংবাদিক রবিউল হুসাইন।

এ ছাড়া কর্মসূচিতে অংশ নেন ব্যাংকার ও সংগঠক মতিউর রহমান, লেখক ও সাংবাদিক ফজলে রাব্বী সোহেল, সাংবাদিক ও নাট্যাভিনেতা মোকাররম মামুন, সাংবাদিক ও সংগঠক গাজী মোবারক, লেখক ও শিক্ষক আসমা আখতারী, লেখক ও সাংবাদিক রোকেয়া আক্তার, লেখক ও সংগঠক শংকর প্রকাশ, লেখক মোফাখখার সাগর, লেখক সেলিম আহমেদ প্রধান, লেখক শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক মো. বিল্লাল প্রধান, বিরত আলীসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য।

পানাম নগরী থেকে যাত্রা শুরু করে অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ধরে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন প্রাচীন স্থাপনা ও প্রত্নস্থল ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন করা স্থানগুলোর মধ্যে ছিল মহজমপুর শাহী জামে মসজিদ, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, জ্যোতি বসুর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, কোম্পানিকা ব্রিজ, প্রাচীন ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় ও হাদিস চর্চাকেন্দ্র, শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা ও ইব্রাহিম দানিশমান্দের সমাধি এবং সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি।

এ ছাড়া তাঁরা ইউসুফগঞ্জ মসজিদ, ফতেহ শাহ মসজিদ, গোয়ালদি শাহী মসজিদ, শাহ আবদুল হামিদ মসজিদ, পানাম সেতু, নীলকুঠি, ক্রোড়ি বাড়ি, পোদ্দারবাড়ি, বড় সরদারবাড়ি, ছোট সরদারবাড়ি ও পানাম নগরী পরিদর্শন করেন।

রোডশো চলাকালে লিফলেট বিতরণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থা এবং সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।