ভালুকায় ৬৮ মণ্ডপে শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজা
ছবি: সংগৃহীত
মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আবহ। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় দুর্গাপূজা ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার ৬৮টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার মণ্ডপগুলোতে বাড়তি নজরদারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা সাজানো, মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধন ও আলোকসজ্জার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দিন-রাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এবার ভালুকা উপজেলায় মোট ৬৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ভালুকা পৌর এলাকায় রয়েছে ছয়টি মণ্ডপ।
তবে উপজেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ একাধিক থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের। ছোট লোহাবই, মেদুয়ারী, শান্তিগঞ্জ বাজার, রাজৈ বটতলা ও রাজৈ ভূঁইয়াবাড়ি এলাকার কয়েকটি মণ্ডপ ভালুকা, ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া, গফরগাঁও ও শ্রীপুর থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় পড়েছে। এসব মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভালুকা রায় বাড়ি সার্বজনীন পূজামণ্ডপের উপদেষ্টা বীরেন রায় বলেন, এবার উপজেলায় ৬৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজামণ্ডপে কোনো মাদকসেবী বা নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকার মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ভালুকা রায় বাড়ি সার্বজনীন পূজামণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক গবিন্দ কর্মকার বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও তাঁরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে চান। মণ্ডপের আশপাশে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
উৎসবের আমেজের পাশাপাশি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আয়োজক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগে ভালুকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।