প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ব্যক্তি অজুর সময় অঙ্গ ধৌত করবেন যেভাবে

প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ব্যক্তি অজুর সময় অঙ্গ ধৌত করবেন যেভাবে

ফাইল ছবি

অজু মানে হলো পবিত্রতা অর্জন। নামাজ পড়ার জন্য অজু আবশ্যক। অজু ছাড়া নামাজ হয় না। কোরআন স্পর্শ করার জন্য অজু শর্ত। অজুর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ মাফ করেন। বিপুল সওয়াব ও পুণ্য দান করেন।

অজু করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) অজুতে কোনো স্থান শুষ্ক থাকার ব্যাপারে সাবধান করেছেন। যেন কোনো অঙ্গ শুষ্ক না থাকে। কারণ, শুষ্ক থাকলে জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে বলে সতর্ক করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধুয়ে নাও, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধুয়ে নাও। আর যদি তোমরা অপবিত্র (জানাবাত) অবস্থায় থাক, তবে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করো। (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬)

তাই প্যারালাইসিস বা অন্য কোনো রোগের কারণে শরীরের কোনো অঙ্গ সম্পূর্ণ অবশ বা অনুভূতিহীন হয়ে গেলেও যতক্ষণ তা শরীরের অংশ হিসেবে বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অজু ও গোসলের সময় তা ধৌত করা ফরজ। কারণ, শরিয়তের বিধান অঙ্গের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনুভূতি থাকা বা কার্যক্ষম হওয়া এর জন্য শর্ত নয়।

বিশিষ্ট ফকিহ আল্লামা খুজান্দি (রহ.)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যার পা এমনভাবে অবশ হয়ে গেছে যে, তা কেটে ফেললেও সে তা অনুভব করে না। (এ অবস্থায়) অজুর সময় তার দুই পা ধোয়া কি আবশ্যক? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। 

অবশ্য যদি পানির ব্যবস্থা না থাকে কিংবা পানির কাছে যেতে না পারে অথবা পানি এনে দেওয়ার মতোও কেউ না থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে তিনি তায়াম্মুম করবেন।