বগুড়ায় প্রতারণা মামলায় সাবেক শিবির নেতা গ্রেফতার
প্রতিকি ছবি
বন্ধুত্বের সম্পর্ক, সাংগঠনিক পরিচয় আর চটকদার ব্যবসার প্রলোভন-এসবকে পুঁজি করে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মমিনুল ইসলাম মন্ডল ওরফে ‘মইম সুমনের’ বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের একটি মামলায় বগুড়ায় গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিভাগের সাবেক এই নেতা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া মহানগরের প্রেসপট্টি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা যায়, ২০১১ সালে বন্ধুদের নিয়ে ব্যবসার পরিকল্পনা করেন সুমন। ‘বেঙ্গল শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠার পর পর্যায়ক্রমে তেজারা এক্সপোর্ট ইমপোর্ট লিমিটেড, তেজারা প্রপার্টিজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে বন্ধুদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্নজনের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা সংগ্রহ করেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্যতা দেখাতে ঢাকার গুলিস্তান থেকে ৪০-৫০টি নন-ব্র্যান্ডের টেলিভিশন কিনে সেগুলোতে ‘তেজারা টিভি’ লোগো ও কার্টন ব্যবহার করেন। এরপর চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে বলে বন্ধুদের কাছে উপস্থাপন করা হয়। এভাবে বিশ্বাস অর্জন করে পর্যায়ক্রমে টাকা নেন তিনি। প্রায় এক বছর লোকদেখানো ব্যবসা চালানোর পর একসময় আত্মগোপনে চলে যান সুমন। আত্মগোপনের পর বগুড়ায় এসে শ্বশুর পীর আব্দুস সোবহানের বাড়িতে আশ্রয় নেন সুমন। পরে তার সন্ধান পেয়ে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তৎকালীন যুবলীগের বগুড়া জেলা সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটনের সঙ্গে আঁতাত করে পাওনাদারদের হুমকির মুখে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সুমনের বিরুদ্ধে বগুড়া জেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী ওমর ফারুক। ওই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
সমন্বয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ বগুড়ার সাবেক পরিচালক নাজমুল আহসান সোহাগের অভিযোগ, সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলার মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সুমন তার কাছ থেকেও টাকা নিয়েছেন। পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, সমবায় ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষ ও নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে সুমনের বিরুদ্ধে। আদালতে দায়ের করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কিশামত দশনিয়া গ্রামের শাহাদাৎ হোসাইন মন্ডলের ছেলে সুমন। তার শ্বশুর বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার পীর আব্দুস সোবহান। দীর্ঘদিন পর তার গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এখন তাদের দাবি, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।