যে কারণে আপনি সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেবেন

যে কারণে আপনি সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেবেন

ফাইল ছবি

মানুষ তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও কর্মস্থলের জন্য জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করে দেয়। দুনিয়াকে সাজানোর স্বপ্নের পেছনে ছুটতে ছুটতে মানুষ একদিন অন্ধকার কবরে চলে যায়।

সবকিছু আগের মতোই থেকে যায়, কিন্তু সেই মানুষটার চিহ্নও একসময় হারিয়ে যায়। 

তাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি। পরিবার-পরিজন, কর্মস্থল ও বন্ধুবান্ধবের জন্য মহান আল্লাহ যে হক নির্ধারণ করেছেন, তাও আদায় করা উচিত, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য; অন্যথায় (আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় না হলে) এগুলো মৌলিকভাবে মানুষের দুনিয়া-আখিরাতের কোনো কাজে আসবে না। যেমন—পরিবারের কথাই ধরা যাক।

পরিবারের জন্য মানুষ নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেয়। সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে, স্ত্রী-স্বজনের চাহিদা পূরণ করতে কত মানুষ নিজের স্বপ্নগুলোকে কবর দেয়; কিন্তু কিয়ামতের দিন যখন প্রত্যেকেই নিজের মুক্তির চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে, তখন সেই প্রিয়জনদের কাছে একটি নেকির জন্য যেতে ভয় পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাইয়ের কাছ থেকে, তার মা ও বাবা থেকে, তার স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকের এমন গুরুতর অবস্থা হবে, যা তাকে অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ ব্যস্ত করে রাখবে।

’(সুরা : আবাসা, আয়াত : ৩৪-৩৭)

এর মানে এই নয় যে পরিবার-পরিজনের জন্য কিছু করা যাবে না; বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের পারিবারিক জীবনের দায়িত্বগুলো যথাযথ পালন করা আবশ্যক। কিন্তু তা করতে গিয়ে আল্লাহকে ভুলে গেলে, দুনিয়া-আখিরাত দুটিই শেষ।

এবার আসা যাক কর্মস্থলের বিষয়ে। জীবিকার তাগিদে মানুষকে কর্ম করতে হয়। কর্মস্থলের জন্য মানুষ তাদের রক্ত পানি করে।

জীবনের সোনালি সময়গুলো উজাড় করে দেয় প্রতিষ্ঠানের উন্নতিতে। কিন্তু সেই কর্মস্থল কিন্তু বেশির ভাগ কর্মীর জন্য স্থায়ী ঠিকানা হয় না। তাই হালালভাবে কর্মস্থলের হক শতভাগ আদায় করতে হবে। তবে কাজের চাপের অজুহাতে মহান আল্লাহর ইবাদত ভুলে যাওয়া যাবে না।

দুনিয়ার জীবন সাজাতে গিয়েও মানুষ নিজেকে নিঃশেষ করে ফেলে। বড় বাড়ি, দামি আসবাব, সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদার পেছনে ছুটতে ছুটতে কখনো ভুলে যায় নিজের চিরস্থায়ী ঠিকানার কথা। অথচ মৃত্যুর পর তার সাধের ঘরটি অন্যরা ভোগ করে, সম্পদ অন্যদের হাতে চলে যায়, প্রিয়জনরা তাকে কবরে রেখে ফিরে আসে। মাটির নিচে একাকী পড়ে থাকে তার নিথর দেহ। তার সঙ্গী হয় তার আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিনটি জিনিস মৃত ব্যক্তির অনুসরণ করে। দুটি ফিরে আসে, আর একটি তার সঙ্গে থেকে যায়। তার পরিবার ও সম্পদ ফিরে আসে, আর তার আমল তার সঙ্গে থেকে যায়।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৫১৪)

তাই অস্থায়ী দুনিয়া সাজাতে গিয়ে চিরস্থায়ী আখিরাত ভুলে যাওয়া চলবে না। মনে রাখতে হবে, মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেউই প্রকৃত অর্থে আপন নয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফরি করে, তাদের অভিভাবক হলো তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারা আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৫৭)

তাই দুনিয়ার জীবনে মহান আল্লাহর ইবাদত ও সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। মানুষের ভালোবাসা কখনো সীমাবদ্ধতা, দূরত্ব কিংবা মৃত্যুর কারণে থেমে যেতে পারে; কিন্তু আল্লাহর রহমতের দরজা তাঁর বান্দার জন্য খোলা থাকে। বান্দা ভুল করে ফিরে এলে, অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করেন। তিনি কারো প্রতি মুখাপেক্ষী নন, অথচ গোটা বিশ্বের প্রত্যেক মানুষ তাঁরই মুখাপেক্ষী।

অতএব, মহান আল্লাহকেই একমাত্র অভিভাবক হিসেবে জানতে হবে। আল্লাহকে অভিভাবক বা আপন বন্ধু বানানোর অর্থ শুধু মুখে ভালোবাসার দাবি করা নয়, তাঁর সন্তুষ্টিকে জীবনের লক্ষ্য বানানো, তাঁর নিষেধ থেকে বেঁচে থাকা, তাঁর দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা এবং বিপদে-আপদে তাঁরই কাছে ফিরে যাওয়া। তিনিই সেই রব, যাঁর দিকে ফিরে গেলে কোনো প্রত্যাবর্তনই বৃথা যায় না।