হত্যাচেষ্টা মামলা: দিলীপ আগরওয়ালাকে আরও ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
ছবি সংগৃহীত।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীর করা হত্যাচেষ্টা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে আবারও সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ। এর আগে এ মামলায় তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মিয়া।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দিলীপ আগরওয়ালা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিলেও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক তথ্য গোপন করেছেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ। মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রফতার, তাদের নাম-ঠিকানা শনাক্ত এবং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) একই মামলায় দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রফতার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক। ওই দিন পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিল।
মামলাটি করা হয় ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানায়। এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিএনএস সেন্টারের সামনে আন্দোলনের সময় গুলিতে আহত হন শিক্ষার্থী আ. জব্বার। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তিনি মামলাটি করেন।
এজাহারে বলা হয়, সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলার সময় গুলিতে আহত হন বাদী। তার মেরুদণ্ডের নিচে ও কোমরের ওপরের অংশে গুলি লাগে। পরে তাকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
এ মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩০৯, ৩২৬, ১০৯ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে দিলীপ আগরওয়ালাকে ৩১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
দিলীপ কুমার আগরওয়ালা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। এর আগে সোনা ও হীরা কেনার উৎস এবং অর্থপাচারের অভিযোগে গুলশান থানায় করা একটি মামলায় গত ২০ অক্টোবর তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলো আদালত।