সিটি গ্রুপকে এখনই ঋণখেলাপি না করার পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
ফাইল ছবি
ঋণ পরিশোধে অনিয়মিত হয়ে যাওয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের ঋণকে এখনই খেলাপি ঋণ হিসেবে নথিভুক্ত না করতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শিল্পগ্রুপটি যাতে তাদের সমস্যা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃ তফসিলের সুবিধা দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, দেশি-বিদেশি ৪৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সিটি গ্রুপের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকে রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে এসব পরামর্শ দেওয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ ও সরোয়ার হোসেন, ঋণদাতা কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী ও সিটি গ্রুপের এমডি মো. হাসান উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক সিটি গ্রুপের ঋণকে খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত করে এই ঋণ আদায়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গ্রুপটির ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি না করার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সে সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ব্যাংক গ্রুপটির ঋণ খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। এ অবস্থায় গ্রুপটির ঋণ আপাতত খেলাপি না করতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সভায় ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পক্ষে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ব্যাংক এশিয়ার এমডি সোহেল আর কে হুসেইন, ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি তারেক রেফাত উল্লাহ খান, প্রাইম ব্যাংকের এমডি ফয়সাল রহমান, ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি হাসান ও. রশিদ, পূবালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আলী, সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি খালিদ মাহমুদ খানসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের নির্দেশনার সময় পেরিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ব্যাংক নতুন করে গ্রুপটির ঋণ খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। এক ব্যাংকে খেলাপি হলে অন্য ব্যাংক থেকে কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না। এ কারণে সমস্যায় পড়েছে গ্রুপটি। এ কারণে সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না, যাতে গ্রুপটির ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সিটি গ্রুপ আগে কখনো খেলাপি হয়নি। গ্রুপটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। এ জন্য সবাই চায় গ্রুপটি সমস্যা কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বলেছে, ব্যাংকগুলোকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে, যাতে গ্রুপটি আরও খারাপ হয়ে যায়।