‘ছাত্র বা ছাত্রী শারীরিক-যৌন নির্যাতনের শিকার হলে অভিযোগ তদন্তের সুস্পষ্ট নিয়ম থাকা উচিত’

‘ছাত্র বা ছাত্রী শারীরিক-যৌন নির্যাতনের শিকার হলে অভিযোগ তদন্তের সুস্পষ্ট নিয়ম থাকা উচিত’

ছবি সংগৃহীত।

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ছাত্র বা ছাত্রী শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে, অভিযোগ আসার সাথে সাথে তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

ঘটনা সত্য হলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী হইলে তার কঠোর শাস্তি পাওয়া উচিত। অভিযোগের তদন্ত কে করবে, কিভাবে হবে-তার সুস্পষ্ট নিয়ম থাকা উচিত।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মির্জা গালিব এসব কথা লিখেছেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

স্ট্যাটাসে তিনি আরো লেখেন, এই কথা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা-সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যই সমভাবে প্রযোজ্য। কিন্তু মাদ্রাসা দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে, মাদ্রাসার ব্যাপারে এই রকম অভিযোগ আসলে ইসলামপন্থি সকল মানুষের দায়দায়িত্ব অন্যদের চাইতে বেড়ে যায়।

ইসলাম দুনিয়াতে আসছে শুধু মুসলমানদের মুক্তির জন্য না, বরং সমগ্র মানবতার মুক্তির জন্য। ইসলামি রাজনীতির কনসেপ্টই দাঁড়ায়ে আছে, সেকুলার সিস্টেমের শোষণ নিপীড়নের বিপরীতে ইসলামী সিস্টেম মানুষের মুক্তির পথকে সুগম করতে পারে-এই ধারণার উপর।

আর সেইখানে একটা ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এসে যদি একজন শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়, জুলুমের শিকার হয়, এর পরে যদি আবার ন্যায়বিচার না পায়, এর চাইতে দুঃখজনক কিছু হতে পারে না।

কোন একটা স্পেসিফিক অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, এই আলোচনায় না গিয়েই এইটা বলা যায় যে, বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে এই জাতীয় অভিযোগের তদন্ত এবং বিচারের জন্য একটা ভালো সিস্টেম নাই।

অথচ বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে অনেক বড় বড় আলেম আছেন। অনেকগুলো ইসলামি রাজনৈতিক দল আছে দেশে। তো, আপনারা সবাই মিলে যদি দেশে ইসলাম শেখার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারেন, তাইলে মানুষ কেন বিশ্বাস করবে আপনারা যে ধর্ম প্রচার করেন, যে রাজনীতি করেন-সেইটা দিয়া মানুষের মুক্তি হবে?

ইউসুফ (আ.)-কে মিশরের রাজা জেলখানা থেকে বের করে নিয়ে এসে ক্ষমতা দিয়েছিলেন, কারণ তিনি রাজার স্বপ্ন ব্যাখ্যা করে বলতে পারছিলেন যে সাত বছর পরে মিশরে দুর্ভিক্ষ হবে। আর সেই দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যাবতীয় ব্যবস্থা কিভাবে করতে হবে, তার ডিটেইলস গাইডলাইনও তিনি দিয়েছিলেন।

দুনিয়াতে ফিতনা ফ্যাসাদ তৈরি না করে মানুষের সমাজে কিভাবে ইনসাফ কায়েম হবে, কিভাবে মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান হবে সেইটা দেখানোই নেতৃত্বের মূল কাজ। ঘরের সমস্যা সমাধান না করতে পারলে, সমাজ আর রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধান কেমন করে করব আমরা?

ইসলামপন্থি সকল রাজনৈতিক দল, দেশের সম্মানিত আলেমগণ -আপনারা মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ-এই সব নিয়ে এখনই সিরিয়াস হন।

এখন আর দেশ আওয়ামী লীগ চালায় না, আপনাদেরকে কেউ মার্জিনালাইজড করে রাখে নাই। সমস্যাকে ইগনোর কইরেন না, অস্বীকার কইরেন না, বরং সমস্যাকে স্বীকার করেন, কারন আইডেন্টিফাই করেন, সমাধান করেন, সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট করেন। নিজেদের সততা আর সক্ষমতা জাতিকে দেখান।