মালদ্বীপে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেফতার

মালদ্বীপে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেফতার

ছবি সংগৃহীত।

অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মালদ্বীপের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এমডিপি) সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ শহীদকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে আদালতের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মালদ্বীপের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশও তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল্লাহ শহীদ। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ আগে তিনি অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রচার থেকে জনগণকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আব্দুল্লাহ শহীদ মালদ্বীপের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত ব্যক্তিত্ব। পররাষ্ট্রনীতি, আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

১৯৮৪ সালে মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সরকারি কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৯৩ সালে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সম্মেলন বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মামুন আব্দুল গাইয়ুমের নির্বাহী সচিব ও উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০০ সালে ভাভু অ্যাটল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আব্দুল্লাহ শহীদ। একই সময়ে মালদ্বীপের বর্তমান সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা বিশেষ মজলিসের সদস্য হিসেবেও কাজ করেন তিনি।

দেশটির প্রথম বহুদলীয় নির্বাচনের পর সংসদের ১৬তম স্পিকার নির্বাচিত হন শহীদ। ২০০৯ সাল থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

দুই দফায় মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। প্রথমবার ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মামুন আব্দুল গাইয়ুমের প্রশাসনে এবং দ্বিতীয়বার ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহের প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।

২০২১ সালের জুনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি অর্জন করেন আব্দুল্লাহ শহীদ।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ২০১৩ সালে মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এমডিপি) যোগ দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে দলটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।