গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল স্প্যানিশ ফুটবলারের

গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল স্প্যানিশ ফুটবলারের

ফাইল ছবি

মাঠের লড়াই শেষ পর্যন্ত রূপ নিল এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে মারাত্মক এক সংঘর্ষের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন স্প্যানিশ ক্লাব তেনেরিফের ৩০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেল। সোমবার রাতের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গোটা স্প্যানিশ ফুটবলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

সোমবার রাতে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে এফসি আন্দোরার মুখোমুখি হয়েছিল তেনেরিফ। ম্যাচের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে তখন যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিট চলছে। স্কোরবোর্ডে ২-২ সমতা থাকায় দুই দলেই তখন জয়ের তীব্র উত্তেজনা। ঠিক তখনই বলের দখল নিতে গিয়ে ঘটে যায় সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ডি-বক্সের বাইরে এসে আন্দোরার গোলরক্ষক হেসুস ওওনো বল ক্লিয়ার করতে গেলে সজোরে ধাক্কা লাগে দে মিগেলের সঙ্গে। গোলরক্ষকের হাঁটু সরাসরি গিয়ে আঘাত করে দে মিগেলের বুকে। মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এই ফরোয়ার্ড।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুই দলের খেলোয়াড়েরা দ্রুত চিকিৎসকদের মাঠে ডেকে পাঠান। মাঠে কয়েক মিনিট প্রাথমিক চিকিৎসার পর দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নেওয়া হয় ইউনিভার্সিটি হসপিটাল অব নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে কান্দেলারিয়ায়। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই একবার হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তার। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে তাকে ফিরিয়ে আনলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা যায়নি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল আটটায় হাসপাতালেই শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

প্রিয় খেলোয়াড়কে হারানোর বেদনায় নিমজ্জিত তেনেরিফ ক্লাব এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "গভীর শোক আর ভারী হৃদয়ে আমরা জানাচ্ছি, আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সকাল আটটায় হেসুস দে মিগেল আলামেদা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা আমাদের জানা নেই। আমরা তার পরিবার, প্রিয়জন ও তেনেরিফের প্রতিটি সমর্থকের পাশে আছি।"

এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আন্দোরার গোলরক্ষক হেসুস ওওনোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি ও শোকে ম্যাচটি পরবর্তীতে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এই অকালপ্রয়াণে রিয়াল মাদ্রিদসহ স্পেনের অন্যান্য ক্লাবও গভীর শোক প্রকাশ করেছে।