পরীক্ষা দিতে এসে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ইবি ছাত্রলীগের ২ নেতা
ছবি: প্রতিনিধি
প্রকাশ্যে জুলাইয়ের আন্দোলনের বিরোধীতা, শিক্ষার্থীদের হুমকি এবং বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতা। বুধবার (২ অক্টোবর) সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিতে আসলে তারা শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র নজরুল কলা ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগের শিক্ষক ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা তাদেরকে উদ্ধার করে ইবি থানা পুলিশে কাছে সোপর্দ করেন।
তোপের মুখে পড়া দুজন হলেন- শাখা ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক শাহিনুর পাশা এবং নাট্য ও বিতর্ক সম্পাদক আল আমিন। তারা দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, ৩য় বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে বুধবার সকালে ক্যাম্পাসে আসেন তারা। পরীক্ষার শুরুতে তারা সহপাঠীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে পরীক্ষায় বসেন। এদিকে তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষার শেষের দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভবনের নিচে জড়ো হয়ে ছাত্রলীগ এবং তাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে বিভাগের শিক্ষকরা তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে করে নিরাপদে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা গাড়ির পথ আটকে দেয়। এসময় দুই ছাত্রলীগ নেতা শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভাগের শিক্ষক এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে তাদেরকে নিরাপত্তা দিয়ে থানায় সোপর্দ করেন।
এ বিষয়ে দুই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, আজ এই সেমিস্টারের সর্বশেষ পরীক্ষা ছিলো। আজ দিতে না পারলে ক্ষতি হয়ে যেতো। তবে আমাদের ভুল হয়েছে বিভাগের শিক্ষকদের না জানিয়ে এসেছি। তবে আমাদের পরীক্ষা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, আমরা জানতে পারার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের উপর যাতে মব জাস্টিস না হয় সেটাকে গুরুত্ব দিয়েছি। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমন্বয়করা মিলে নিরাপদে থানায় সোপর্দ করেছি।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে না জানিয়েই পরীক্ষা দিতে আসে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা তাদেরকে থানায় হস্তান্তর করে। তারা এখন আমাদের হেফাজতে আছে।