সরকারি জমি দখল করে পথ বন্ধ করে দিলেন বিএনপি নেতা
ছবিঃ সংগৃহীত।
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় হালট দখল করে পারিবারিক কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার সিকদার ও বিএনপি নেতা আবু সালেহ খোকন এর বিরুদ্ধে। আবদুল জব্বার সিকদার দুমকি উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি এবং আবু সালেহ খোকন দুমকি উপজেলা বিএনপির ত্রান ও দূযোর্গ বিষয়ক সম্পাদক। তাদের এমন অনিয়নের ফলে দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে একটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার ২ নম্বর লেবুখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আঠারগাছিয়া গ্রামের সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী কামাল সিকদার পেশায় একজন সাংবাদিক। তার পরিবারের দাবি, সরকারি রেকর্ডে হালট হিসেবে চিহ্নিত জমির ওপর কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করায় তাঁদের বাড়িতে যাতায়াতের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আঠারগাছিয়া মৌজার ১৫০২ নম্বর প্লটের একটি সরকারি হালট কার্তিকপাশা ও আঠারগাছিয়া গ্রামের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। দক্ষিণ আঠারগাছিয়া বায়তুল হাসান জামে মসজিদের উত্তর পাশে অবস্থিত ওই হালটের প্রায় ২৯ শতক জমি পারিবারিক কবরস্থানের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আবদুল জব্বার সিকদারের প্রভাবের কারণে তাঁরা প্রতিকার চাইতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে গেলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিক কামাল সিকদার বলেন, ঘটনার সময় তিনি পটুয়াখালী শহরে ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দেয়াল নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। পরে দুমকি থানার এসআই শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। খবর পেয়ে তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, তাঁদের বাড়িতে প্রবেশের রাস্তায় দেয়াল নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবদুল জব্বার সিকদার ও তাঁর ভাই আবু সালেহ খোকন জায়গাটি সরকারি হালট জায়গা বলে স্বীকার করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, এটি তাঁদের বাপ-দাদার আমলের পারিবারিক কবরস্থান। সরকারি জমিতে পাকা ওয়াল দিতে পারবেন কিনা এমন প্রম্নের জবাবে তিনি বলেন, “এমন অনেক অনিয়ম হচ্ছে দেশে এটা কোনো বিষয় না”। তাৎক্ষনিক বিএনপি নেতার পরিবারের অন্য সদস্যরাও এমন কথা বলেন।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সরকারি হালট জমিতে ব্যক্তিগত পাকা স্থাপনা নির্মানের সুযোগ নেই।
স্থানীয়দের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকানা ও অবস্থান নির্ধারণ করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ নিশ্চিত করা জরুরি।