পিরিয়ডের সময় জিকির করা যায়, দোয়া করা যায়, কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া ও দরুদ পড়া যায়। তবে পিরিয়ডের সময় কোরআন তিলাওয়াত করা থেকে বিরত থাকতে হয়। এ সময় কোরআন তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ।
জিকির
ইবাদতের মূল প্রাণশক্তি হলো আল্লাহর জিকির। মুমিনের হৃদস্পন্দন কখনো আল্লাহকে ভুলে থাকতে পারে না। রাসুলুল্লাহ (স.) জিকিরকারী ও গাফেল ব্যক্তির তুলনা দিতে গিয়ে চমৎকার একটি উপমা দিয়েছেন।
নবীজি (সা.) এই জিকিরকে জান্নাতের ধনভাণ্ডার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেন, আমি কি তোমাকে জান্নাতের ধনভাণ্ডারসমূহের একটি ভাণ্ডারের সন্ধান দেব?
ইসলামে সহজ ও ফজিলতপূর্ণ আমলের মধ্যে অন্যতম হলো আল্লাহর জিকির করা। আল্লাহর জিকিরকে সর্বোত্তম ও সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিকির মানে স্মরণ। সাধারণত জিকির বলতে আল্লাহকে স্মরণ করা বুঝানো হয়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহকে স্মরণ বা আল্লাহর জিকির করার কথা বলা হয়েছে। বান্দা আল্লাহকে স্মরণ করলে তিনিও বান্দাকে স্মরণ করেন এবং তার প্রয়োজনে ও তার ডাকে সাড়া দেন।
জিকির ও দোয়া হলো মুমিনের আত্মিক শক্তির উৎস। তা একদিকে যেমন অন্তরকে আল্লাহর দিকে ধাবিত করে, অন্যদিকে দৈনন্দিন জীবনে এনে দেয় প্রশান্তি ও নিরাপত্তা।
মানবজীবনে মানসিক প্রশান্তি ও আত্মিক স্থিরতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ: ২৮) আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্তি লাভ করে এবং মানসিক অস্থিরতা দূর হয়।
জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহ তায়ালার নিকবর্তী হয়ে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা তার কাছে দোয়া করা ব্যক্তিকে ভালোবাসেন
এবং তিনি সবসময় চান মানুষ যেন কাছে প্রার্থনা করে।
সব প্রশংসা একমাত্র আল্লাহপাকের। অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর।
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের ২য় দিন আজ শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি)। ময়দানে জিকিরে ও বয়ানে মশগুল রয়েছেন মুসল্লিরা।