চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে জ্বালানি তেলে লোকসানে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
জ্বালানি তেল
আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। যেটাকে বলা হচ্ছে, জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বা অটোমেটেড প্রাইসিং ফর্মুলা।
জ্বালানি তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল বাণিজ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রক জোট ওপেক প্লাস। এরপরেই বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানির দাম। এক বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ বেড়েছে।
বেসরকারিভাবে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। বোধকরি, বাংলাদেশকে যে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে যে আলোচনা চলছে তার অংশ হিসাবেই বেসরকারি খাতে তেল আমদানির বিষয়টিও উন্মুক্ত করার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আজ প্রায় ২১ লাখ টন জ্বালানি তেল ও ৬০ হাজার টন সার সংগ্রহের জন্য পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
বাংলাদেশের সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিক্রির বিষয়টি তারা বেসরকারি খাতের জন্য খুলে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন।
আগামী ২০২৩ সালের জন্য ৫৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন,বৈশ্বিক কারণে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ কম। তাই আপাতত জ্বালানি তেলের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।
জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দেশে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং চলছে। কোন এলাকায় কখন লোডশেডিং, তার সময়সূচি আগেই জানিয়ে দেয়া হয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কী, তা অনুমান করা যাচ্ছে না। আমরা কষ্ট করছি, বিশ্বের অনেক দেশ আরো বেশি কষ্ট করছে। জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় সবাইকে পীড়া দিচ্ছে। এখান থেকে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’