দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এলএনজি
সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্পট মার্কেট থেকে এখন পর্যন্ত তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করা হয়েছে।
সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা কেপলার এর তথ্য অনুযায়ী এএফপি জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনক পরিচালিত ‘মুবারাজ’ নামের এলএনজি ক্যারিয়ারটি ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯০ ঘনমিটার গ্যাস নিয়ে প্রণালীটি অতিক্রম করেছে।
চলতি ও আগামী মাসে আরো ১৬ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে সরকার। বর্তমানে এলএনজি সরবরাহে কোনো সংকট নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর জ্বালানি সরবরাহের ওপর থেকে চাপ কমার ইঙ্গিত মিলছে। আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাগুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে।
বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ক্রয়ের পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে।
এলএনজি আমদানি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জ্বালানির মূল্য কাঠামো পুনর্বিন্যাসসহ ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) যুব সংসদ।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে কমে গেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে।
মধ্যপ্রাচ্যে হামলার কারণে প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক কাতার উৎপাদন স্থগিত করেছে বলে জানানোর পর ডাচ ও ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের মানদণ্ডমূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
উড ম্যাকেনজির গ্যাস ও এলএনজি গবেষণা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসিমো দি ওদোয়ার্দো বলেন, ‘এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে প্রাপ্য কার্গোর জন্য এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে প্রতিযোগিতা আবারও জোরদার হবে।’