পিরিয়ড বা মাসিক নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। তবে এ সময় অনেকেই পেট ব্যথা, পিঠব্যথা, ক্লান্তি, মেজাজের পরিবর্তন, মাথা ব্যথা কিংবা ফোলাভাবের মতো সমস্যার মুখোমুখি হন।
পিরিয়ড
পিরিয়ডের সময় জিকির করা যায়, দোয়া করা যায়, কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া ও দরুদ পড়া যায়। তবে পিরিয়ডের সময় কোরআন তিলাওয়াত করা থেকে বিরত থাকতে হয়। এ সময় কোরআন তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ।
পিরিয়ড কিংবা ঋতুস্রাবের স্বাভাবিক নিয়মে সামান্য কোনো পরিবর্তন হলেও নারীরা চিন্তায় পড়ে যান। ভাবেন অতিরিক্ত স্ট্রেস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ডায়েটের পরিবর্তনের কারণে হয়ত এমনটা হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে এর জন্য পিসিওএস (PCOS) এর মতো হরমোনঘটিত সমস্যাকে দায়ী করা হয়।
নারীদের জীবনে একটি স্বাভাবিক চক্র ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড। কিন্তু একে কেন্দ্র করে যেসব শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় তা মোটেও স্বাভাবিক নয়। কেউ অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যায় ভোগেন, আবার কারোর পিরিয়ডের আগে স্তনে ব্যথা শুরু হয়।
নারীর পিরিয়ডের দিনগুলোতে হরমোনের ওঠা-নামা হয় দ্রুত। তাই মুড সুইং বা মেজাজ পরিবর্তনের পরিস্থিতি দেখা যায়। এসময় বেশিরভাগ নারীরই পেট ও কোমরে অসহ্য ব্যথা, ক্লান্তি, বমির প্রবণতা ইত্যাদির প্রবণতা থাকায় সেই সময়টা আরো কষ্টকর হয়ে ওঠে।
ফলমূলকে সবচেয়ে পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয় যা প্রায় সব ঋতুতেই খাওয়া যেতে পারে।
গোসল ফরজ ও অজু না থাকা অবস্থায়ও দরুদ পড়া জায়েজ। অজুহীন বা গোসল ফরজ অবস্থায় নবীজির (সা.) নাম বললে বা শুনলে দরুদ পড়তে হবে। অনেকে দরুদ পড়ার জন্য অজু-গোসল জরুরি মনে করে অজুহীন ও গোসল ফরজ অবস্থায় নবীজির (সা.) নাম শুনলে দরুদ পড়া থেকে বিরত থাকেন—এটা ঠিক নয়।
প্রতিমাসের ৪-৫টি দিন বেশিরভাগ নারীকেই অস্বস্তিতে কাটাতে হয়। ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডের এই কটা দিনে কেউ ভোগেন তলপেট ব্যথায়। কারো মুখ ভরে যায় ব্রণে। অনেকের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলেই মুখে ব্রণ ওঠে।
পিরয়িডের লক্ষণ সব নারীর ক্ষেত্রে একরকম হয় না। তাছাড়া বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এটি পরিবর্তিত হতে পারে। পিরিয়ডের সময় যাদের খুব একটা সমস্যা হয় না, তারা ভাগ্যবতী। তবে এরকম নারীর সংখ্যা কম। অনেকের ক্ষেত্রে এসময় অস্বস্তির চেয়েও বেশি মাথাব্যথা, পা অসাড়তা/ঝিনঝিন এবং স্তনে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা সাধারণ।
পিরিয়ডের সময় বিভিন্ন খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়ে ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন করেন যে, এসময় মসলাদার খাবার খাওয়া যাবে কি না। কেউ কেউ মনে করেন যে, মসলা পেটের খিঁচুনি বাড়িয়ে দিতে পারে বা পেটের জন্য অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, আবার কেউ কেউ তাদের আরামদায়ক খাবারের অংশ হিসেবে মসলা যোগ করতে পছন্দ করেন।