আল-ফুরকান যা আল-কুরআনের অপর নাম। যার অর্থ হলো- সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। নাজিল হয়েছিল রমজানের এক মহিমান্বিত রজনীতে, নাম তার লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘রমজান তো সেই মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য পুরোপুরি হিদায়াত এবং এমন দ্ব্যর্থহীন শিক্ষাসংবলিত, যা সত্য-সঠিক পথ দেখায় এবং হক-বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয়।’ (সূরা বাকারাহ-১৮৫)
- ৬ বিশ্বকাপে রোনালদোর ১০ গোল, মেসি শেষ ৭ ম্যাচেই করলেন ১১টি
- * * * *
- যেসব কারণে নারীদের আগে পুরুষরা বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন
- * * * *
- আবার যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না: ট্রাম্প
- * * * *
- জেট বিমানের সমান শব্দ করে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন অস্ট্রেলীয় নাগরিক
- * * * *
- আর্জেন্টিনাকে এড়াতেই কি এত বাজে খেলেছে পর্তুগাল?
- * * * *
ইসলাম
জাকাত বণ্টনের ব্যাপারে আল কোরআনের স্পষ্ট ঘোষণা হচ্ছে, ‘নিশ্চয়ই সাদাকাহ (জাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও জাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটাই আল্লাহর বিধান’ (সুরা তওবা-৬০)। কোরআনের আলোকে জাকাত পাওয়ার যোগ্যরা হলেন-
রমজান আল্লাহর নৈকট্য ও পুণ্য লাভের সর্বোত্তম সময়। কেননা রমজান মাসে আল্লাহ রহমতের দুয়ার খুলে দেন এবং
নামাজ ও জাকাতের পর রোজা অবশ্যপালনীয় বা ফরজ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ রোজা। মাহে রমজান ও রোজার মাসের গুরুত্বও মুমিনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। আগের অনেক আসমানি কিতাব রমজানে নাজিল হওয়ায় এ মাসের মর্যাদা সহজেই অনুমেয়।
জাকাত ফরজ ইবাদত এবং ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। পবিত্র কোরআনে যেখানে নামাজের কথা এসেছে, সেখানেই দেখা যায় জাকাতের কথা। ‘নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, সালাত প্রতিষ্ঠা করেছে এবং জাকাত দিয়েছে, তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের রবের নিকট।
রমজান মুসলিম উম্মাহর দরবারে সংযম, আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধির বার্তা বয়ে আনে। সারা দিনের সাওম পালন শেষে সূর্যাস্তের আগে ইফতার নিয়ে অপেক্ষমাণ মু’মিন বান্দা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের বলিষ্ঠ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। রমজানের পাঁচটি সুন্নতের দ্বিতীয়টি হলো ইফতার। ইফতারের মাধ্যমে সারা দিনের উপবাসের ক্লিষ্ট যাতনার অবসান হয়ে রোজাদার এক আধ্যাত্মিক তৃপ্তি লাভ করে।
রহমত, নাজাত ও মাগফিরাতের বারতা নিয়ে পবিত্র মাহে রমজান আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। মহান প্রভু আমাদেরকে আরো একটি বরকতময় মাস উপভোগ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ মাস এতটাই বরকতপূর্ণ যে, প্রতিটি আমলের বিনিময়স্বরূপ বান্দা পেয়ে যায় তার ৭০ গুণ বেশি প্রাপ্য। বন্ধ হয়ে যায় কবরবাসীর শাস্তি।
বিশ্ব নবী ও আখেরি বা শেষ নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পৃথিবীর বুকে পবিত্র কোরআনুল কারিম অধ্যয়ন, অনুশীলন ও প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দিয়েই পাঠানো হয়েছিল।
রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম রোকন এবং ফরজ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বনকারী হতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)
জীবন ধারণের জন্য জীবিকার প্রয়োজন অনস্বীকার্য। ইসলাম কখনো এর গুরুত্ব অস্বীকার করেনি; বরং বিভিন্নভাবে জীবিকা অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করেছে। যেমন কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘আল্লাহ তায়ালা ব্যবসায়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সূরা বাকারা-২৭৫
রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম রোকন এবং ফরজ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বনকারী হতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর নফল সালাতের মধ্যে সর্বোত্তম মর্যাদাপূর্ণ এবং বরকতময় সালাত হলো সালাতুত তাহাজ্জুদ। মাহে রমজানে সালাতুত তাহাজ্জুদের সাওয়াব এবং ফজিলত অন্যান্য মাসের নফল সালাতের চেয়ে বহুগুণ বেশি এবং মর্যাদাপূর্ণ।
করোনার পর রমজানে ওমরাহ পালন করতে মক্কা ও মদিনায় পাড়ি জমিয়েছেন বিশ্বের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলিম। ফলে পবিত্র কাবাঘর প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছে ওমরাহযাত্রী ও মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়।
শুরু হয়েছে মহিমান্বিত মাস রমজান। এই সময় রোজা পালন করবেন বিশ্বের শত কোটি মুসলিম। এ বছর বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, আমিরাতসহ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রতিদিন সাড়ে ১৩ ঘণ্টা থেকে ১৫ ঘণ্টা রোজা রাখবেন মুসলিমরা।
ক্ষমার মহান বার্তা নিয়ে স্বমহিমায় হাজির পবিত্র রমজান। এ মাসে প্রতিটি ইবাদতের প্রতিদান যেমন বহুগুণে বেড়ে যায়, তেমনি সব পাপ ছেড়ে দিয়ে ভালো মানুষ হিসেবে নিজের জীবনকে নতুন করে সাজানোর সুযোগও এনে দেয় রমজান। বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সমাহার- এই মাসের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেয়।
আহলান সাহলান, মাহে রামাদান। মুসলিম উম্মাহর জন্য বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র রমজানুল মোবারক। রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। আজ শুক্রবার প্রথম রোজা। মাহে রমজানের প্রথম দিন।