চুলের যত্নে পেয়ারা পাতা ফোটানো পানির ব্যবহার

চুলের যত্নে পেয়ারা পাতা ফোটানো পানির ব্যবহার

ছবিঃ সংগৃহিত।

পেয়ারার গুণের কথা কম-বেশি সবার জানা। স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি ফল এটি। তবে কেবল পেয়ারা নয়, এর পাতাও কম উপকারি নয়। দাঁতে ব্যথা বা মুখে দুর্গন্ধ হলে পেয়ারা পাতা ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করলে এই দুই সমস্যাই দূর হয়। ত্বকের জেল্লা ফেরাতেও কার্যকর এটি। 

কিন্তু জানেন কি, চুল পড়া কমাতেও সাহায্য করে পেয়ারা পাতার পানি? কীভাবে এটি কাজ করে? কীভাবেই বা ব্যবহার করতে হয়? চলুন জেনে নিই- 

চুলের জন্য পেয়ারা পাতার উপকারিতা

ভিটামিনে ভরপুর একটি উপাদান পেয়ারা পাতা। পেয়ারার পাশাপাশি এর পাতায়ও রয়েছে ভিটামিন বি এবং সি। রয়েছে অ্যান্টি অক্সিড্যান্টও। চুলের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কোলাজেন নামক প্রোটিন। পেয়ারা পাতা কোলাজেনের মাত্রা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। 

চুলের যত্নে এটি কীভাবে কাজ করে?

পেয়ারা পাতাতে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর এই উপাদানটি চুলের বৃদ্ধিতে কার্যকর। এই পাতায় থাকা লাইকোপেন নামে এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট কোষের ক্ষতি রুখতে সাহায্য করে। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির হাত থেকে চুলকে রক্ষা করে। 

পেয়ারা পাতার পানিতে থাকে ফ্ল্যাভোনয়েড। এই উপাদানটি চুল নরম, সুন্দর এবং মসৃণ করে। পেয়ারা পাতার পানিতে থাকে অ্যান্টি ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান। তাই এই পানি মাথার ত্বকের সংক্রমণ, খুশকি বা প্রদাহের মতো সমস্যার সমাধান করতে পারে। 

ভিটামিন সি এর পাশাপাশি পেয়ারা পাতায় থাকে ভিটামিন ই-ও। এই দু'টি উপাদান ত্বক ও চুল দুইয়ের জন্যই উপকারি। এত গুণের কারণেই পেয়ারা পাতা ব্যবহারে প্রাকৃতিক উপায়ে ঝলমলিয়ে উঠতে পারে চুল।

কীভাবে চুলের যত্নে পেয়ারা পাতা ব্যবহার করবেন?

এক লিটার পানিতে এক মুঠ পরিষ্কার পেয়ারা পাতা ফুটিয়ে নিতে হবে। আঁচ কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে অন্তত ২০ মিনিট তা ফুটিয়ে নিন। এরপর সেই পানি ঠান্ডা করে ছেঁকে বোতলে ভরে নিতে পারেন।

এবার শ্যাম্পু করার পর পেয়ারা পাতার পানি দিয়ে চুল ধুতে পারেন। চাইলে বোতলে ভরে সেটি চুলে স্প্রে করেও নিতে পারেন। সপ্তাহে ২-৩ বার এই পানি ব্যবহার করলে চুল হবে ঘন ও সুন্দর।