ফরিদপুরে আগুনে পুড়ে চাচা ও ভাতিজার মৃত্যু

ফরিদপুরে আগুনে পুড়ে চাচা ও ভাতিজার মৃত্যু

ছবিঃ সংগৃহীত।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আগুনে পুড়ে ইসমাইল মুন্সী (৪) ও ইয়াছিন মুন্সী (৩) নামে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যূ হয়েছে। সম্পর্কে তারা চাচা -ভাতিজা। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ভাঙ্গা উপজেলার রশিবপুরা গ্রামে। আজ সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে গ্রামে তাদের কবর দেওয়া হয়।

দুই শিশুর মধ্যে রবিবার (১৭ নভেম্বর) রাত ৭ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যায় ইসমাইল মুন্সী। একই ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (১৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে মারা যায় ইয়াছিন মুন্সী।  

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রশিবপুরা গ্রামের দিনমজুর ছিদ্দিক মুন্সীর (৬২) ছোট ছেলে ইসমাইল মুন্সী। আর ছিদ্দিক মুন্সীর বড় সন্তান আসাদ মুন্সীর ছেলে ইয়াছিন মুন্সী।

ইয়াছিনের পিতা আসাদ মুন্সী (৩৪) গত ১৪ নভেম্বর কাজের সন্ধানে সৌদি আরব গিয়েছেন।

রশিবপুরা গ্রামের আওলাদ মুন্সী বলেন, রবিবার সকাল ১০ টার দিকে বাড়ির রান্নাঘরের পাশে চাচা-ভাতিজা দুই শিশু খেলা করছিল। একটু পরেই রান্নাঘরে আগুন লাগে। এলাকার লোকজন আগুন নেভাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

রান্না ঘরের আগুন একটু নিয়ন্ত্রণে আসলে একজন রান্নাঘরের পাশের টয়লেটের পাটকাঠির বেড়া সরাতেই দেখা যায় শিশু দুটি অগ্নিদগ্ধ হয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। এরপর শিশু দুটিকে উদ্ধার করে রবিবার দুপুর পৌনে ১২ টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দুপুর আড়াইটার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই একে একে দুই শিশু মারা যায়।

সন্তান ও নাতি হারিয়ে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ছিদ্দিক মুন্সী।

তিনি বলেন, রবিবার গ্রামের একটি বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজে যাই। আমার স্ত্রী নাসিমা বেগম সকালের রান্না শেষ করে পার্শবর্তী মালিগ্রাম বাজারে একটি কাজে যায়। বাড়িতে ছোট ছেলে ও নাতিকে রেখে যায়। এরই মধ্যে আমার সব শেষ। আমার বড় ছেলে আসাদ মুন্সী (ইসমাইলের পিতা) ধার দেনা করে গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরব যায়। তার ছেলেটাও মারা গেলো। তাকে সান্তনা দেবে কে?

প্রতিবেশী মজিবর মুন্সী (৬৪) বলেন, আগুন লাগার পরেই মসজিদের মাইক থেকে এলাকাবাসীকে জানানো হয়। এলাকার মানুষ আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। আমি আমার মটর চালিয়ে পানির ব্যবস্থা করি। সবাই রান্নাঘরের আগুন নিভিয়ে বাড়ির অন্য ঘর রক্ষার চেষ্টা করছিল। রান্নাঘরের পাশের টয়লেটে দুই শিশু আটকা পড়ার বিষয়টি কারও ধারণায় ছিল না। আগুন ঘরে ধরে যাওয়ায় পাশের টয়লেটে আশ্রয় নেয় শিশু দুটি। টয়লেটটির নীচে পাকা ও চারপাশে পাটকাঠির বেড়া ছিল।

দুই শিশুর স্বজন উজ্জ্বল মুন্সী বলেন, আমি আমার অগ্নিদগ্ধ ভাই ও ভাতিজাকে নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলাম। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তারপরেও বাঁচাতে পারলেন না। আগুনে ইসমাইলের শরীরের প্রায় ৯০ ভাগ ও ইয়াছিনের শরীরের ৬৮ ভাগ পুড়ে যায়।

রশিবপুরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইদ্রিস আলী বলেন, এ ঘটনায় পুরো এলাকাবাসী শোকাহত। দুজন ফুলের মতো কোমলমতি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু সহ্য করা যায় না।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মৌলি চৌধুরী জানান, অগ্নিদগ্ধ ইয়াসিনের শরীরের প্রায় ৬৮ ভাগ এবং ইসমাইলের শরীরের ৯০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করেছিলাম।