ইসলামে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার শাস্তি

ইসলামে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার শাস্তি

ফাইল ছবি

ইসলামে সব রকম অশ্লীল, অশালীন, কদর্য, কুরুচিপূর্ণ, নির্লজ্জ কাজ ও কথা নিষিদ্ধ। কারণ, ইসলাম পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও সুস্থ রুচি ও প্রকৃতির ধর্ম। যেমন ব্যভিচার, নগ্নতা, সমকামিতা, মাহরাম আত্মীয়কে বিয়ে করা, অপবাদ দেওয়া, গালাগালি করা, কটু কথা বলা ইত্যাদি সবই ইসলামে নিষিদ্ধ।

আর এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনুল কারিমে মহান রাব্বুল আলানি আল্লাহ তাআলা বলেন, قُلۡ اِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّیَ الۡفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَ مَا بَطَنَ وَ الۡاِثۡمَ وَ الۡبَغۡیَ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ وَ اَنۡ تُشۡرِكُوۡا بِاللّٰهِ مَا لَمۡ یُنَزِّلۡ بِهٖ سُلۡطٰنًا وَّ اَنۡ تَقُوۡلُوۡا عَلَی اللّٰهِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ

অর্থ: ‘আপনি বলে দিন: আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গুনাহ, অন্যায়-অত্যাচার আল্লাহর সঙ্গে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোনো, সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না’। (সূরা: আ’রাফ, আয়াত: ৩৩)

কোরআনুল কারিমের অন্য আরেক আয়াতে রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, اِنَّ اللّٰهَ یَاۡمُرُ بِالۡعَدۡلِ وَ الۡاِحۡسَانِ وَ اِیۡتَآیِٔ ذِی الۡقُرۡبٰی وَ یَنۡهٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَ الۡمُنۡكَرِ وَ الۡبَغۡیِ ۚ یَعِظُكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُوۡنَ

অর্থ: ‘আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্নীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।’। (সূরা: নাহল, আয়াত: ৯০)

বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন আর কেউ নেই, তাই তিনি অশ্লীলতাকে হারাম করেছেন’। (সহিহ বুখারি: ৫২২)

নিজে অশ্লীল কাজে জড়িত হওয়া গুনাহের কাজ। এর চেয়ে বড় গুনাহের কাজ হলো সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়া। নিজের পাশাপাশি অন্যদের মধ্যেও অশ্লীলতার প্রসার ঘটানোর চেষ্টা করা। ইসলাম চায় মুসলমানদের সমাজ অপবিত্র, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত থাকুক, পরিচ্ছন্ন থাকুক। মানুষ জীবনযাপন করার জন্য, আল্লাহর ইবাদত করার জন্য সুস্থ সুন্দর পরিবেশ পাক। একজন মানুষ নিজে কোনো অশ্লীল কাজে জড়িত হলে সে শুধু নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নিজের অন্যায়ের জন্য দায়ী হয়, আর সমাজ কলুষিত হলে, সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিলে সমাজের সব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার কঠোর শাস্তি ঘোষণা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, اِنَّ الَّذِیۡنَ یُحِبُّوۡنَ اَنۡ تَشِیۡعَ الۡفَاحِشَۃُ فِی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَهُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ۙ فِی الدُّنۡیَا وَ الۡاٰخِرَۃِ ؕ وَ اللّٰهُ یَعۡلَمُ وَ اَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ

অর্থ: ‘যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না’। (সূরা: নুর, আয়াত: ১৯)

যারা সমাজে অশ্লীলতা ছড়ায়, তারা নিজেদের গুনাহের পাশাপাশি তাদের গুনাহের জন্য দায়ী হয়, যারা তাদের কথা-কাজে প্ররোচিত হয়ে গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন, لِیَحْمِلُوْۤا اَوْزَارَهُمْ كَامِلَةً یَّوْمَ الْقِیٰمَةِ وَ مِنْ اَوْزَارِ الَّذِیْنَ یُضِلُّوْنَهُمْ بِغَیْرِ عِلْمٍ اَلَا سَآءَ مَا یَزِرُوْنَ

অর্থ: ‘কেয়ামতের দিন তারা বহন করবে নিজেদের পাপের বোঝা পূর্ণ মাত্রায়, আর তাদেরও পাপের বোঝা যাদেরকে তারা গোমরাহ করেছে নিজেদের অজ্ঞতার কারণে। হায়, তারা যা বহন করবে তা কত নিকৃষ্ট’! (সূরা: নাহল, আয়াত: ২৫)

ইয়া আল্লাহ! আমাদের সবাইকে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘৃণিত কাজ থেকে দূরে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।