সিরিয়াকে টুকরো করতে দেব না: এরদোগান

সিরিয়াকে টুকরো করতে দেব না: এরদোগান

ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়াকে কখনো ভেঙে ফেলতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি সিরীয় ভূখণ্ডের অখণ্ডতা নিয়ে আপস করতে চায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তুরস্ক কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

রাজধানী আঙ্কারায় মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) এক কনভেনশনে তিনি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। খবর আনাদোলুর।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা সিরিয়াকে আর বিভক্ত হতে দিতে পারি না... সিরিয়ার জনগণের স্বাধীনতা, নতুন প্রশাসনের স্থিতিশীলতা এবং সিরীয় ভূমির অখণ্ডতার ওপর যেকোনো ধরনের হামলা হলে আমরা তার বিরুদ্ধে দাঁড়াব।

এর আগে সিরিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি তুরস্কের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে গোলান মালভূমিতে জাতিসংঘের নির্ধারিত বাফার জোন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রবেশের নিন্দা জানায় তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতিতে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সিরিয়ার জনগণ বহু বছর ধরে যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার আকাঙ্ক্ষা করে আসছে, বর্তমানে তা অর্জনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কিন্তু মর্মান্তিক বিষয় হলো স্পর্শকাতর এই সময়ে ইসরায়েল আবারও তার দখলদার মানসিকতা প্রদর্শন করছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিরিয়াকে তার জনগণের শাসন করা উচিত। তুরস্ক একটি ঐক্যবদ্ধ এবং সন্ত্রাসমুক্ত সিরিয়া গঠনে সর্বাত্মক সহায়তা চালিয়ে যাবে।

এর আগে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে কথা বলার সময় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, আঙ্কারা নতুন সিরিয়া দেখতে চায়, যারা প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকে। সিরিয়াকে পুনর্গঠনে সহায়তা করতে তুরস্ক প্রস্তুত।

ফিদান বলেন, বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের নিরাপদে সিরিয়ায় ফিরে যেতেও সহায়তা করবে তুরস্ক। সিরিয়ায় নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। এখন সময় সামনের দিকে এগোনোর।

বিদ্রোহীদের জোরদার হামলার মুখে মাত্র ১২ দিনেই পতন হয় প্রেসিডেন্ট আসাদের ২৪ বছরের সাম্রাজ্যের। রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানী দামেস্কে প্রবেশ করতে শুরু করেন বিদ্রোহীরা। এর মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ রাজধানী দামেস্ক ছেড়ে রাশিয়া পালান। বর্তমানে তিনি পরিবারসহ মস্কোতে আশ্রয় নিয়েছেন। 

তুরস্কে প্রায় ৩০ লাখ সিরীয় শরণার্থী বসবাস করেন। আসাদের পতনের পর আঙ্কারায় সিরীয় প্রবাসীরা বিদ্রোহীদের বিজয়কে কেন্দ্র করে মিছিল বের করেন। তারা এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করতে শুরু করেছেন।