জেনে নিন ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখবে যে সবজি

জেনে নিন ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখবে যে সবজি

ছবিঃ সংগৃহীত।

ডায়াবেটিস একটি জটিল ক্রনিক রোগ। এই রোগে আক্রান্তদের মিষ্টি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার, ফাস্ট ফুড, প্রসেসড ফুড দূরে থাকতে হয়। পরিবর্তে খেতে হয় হাই ফাইবার যুক্ত শাক-সবজি। আর এমন একটি উপকারী সবজি হচ্ছে লাউ।

এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি-সহ একাধিক জরুরি ভিটামিন ও খনিজের ভাণ্ডার। সেই সঙ্গে এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। যার ফলে এই খাবার খেলে সুস্থ থাকে শরীর।

আজকের প্রতিবেদনে জানবেন ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণসহ লাউয়ের অন্যান্য গুণাগুণ।

চলুন দেখে নেওয়া যাক।

লো গ্লাইসেমিক ফুড

ডায়াবেটিক রোগীদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫-এর মধ্যে যে খাবারগুলো থাকে সেগুলো খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আসলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকার অর্থ হলো সেই খাবার খেলে সুগার বাড়বে না। যার ফলে শরীরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

আর লাউয়ের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাত্র ১৫। অর্থাৎ এই খাবার খেলে তেমন একটা সুগার বাড়ার আশঙ্কা থাকে না। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের এই সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ফাইবারের ভাণ্ডার

ডায়াবেটিক রোগীদের হাই ফাইবার খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর এমন একটি অত্যন্ত উপকারী ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার হলো লাউ।

এতে উপস্থিত ফাইবার রক্তে সুগারকে বাড়তে দেয় না। যার ফলে শরীর থাকে সুস্থ। এছাড়া এই সবজিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভাণ্ডার। এই উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। যার ফলে শরীর ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচে।

তবে শুধু সুগার কন্ট্রোল নয়, এর পাশাপাশি আরো একাধিক উপকার করে লাউ, যেমন

পেট সুস্থ রাখে

নিয়মিত গ্যাস, অ্যাসিডিটিতে ভোগা রোগীদের জন্য লাউ একটি উপকারী সবজি। এতে থাকা ফাইবার অন্ত্রের হাল ফেরায়। যার ফলে বাড়ে হজমশক্তি। এড়িয়ে চলা যায় গ্যাস, অ্যাসিডিটির মতো জটিল অসুখ। এমনকি আইবিএস, আইবিডির মতো সমস্যাকেও অনায়াসে বশে রাখা যায়।

হার্ট ভালো রাখে

লাউয়ে থাকা ম্যাগনেশিয়াম প্রেশার কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে মজুত পটাশিয়াম রক্তনালিকে শান্ত রাখে। সেই কারণেও বিপি কমে। আর প্রেশার বশে থাকার সুবাদে হার্টের অসুখ দূরে থাকে। শুধু তাই নয়, এতে থাকা ফাইবার কোলেস্টেরলের লেভেল কমায়। সেই সুবাদেও হার্টের জটিল রোগ প্রতিরোধ করা যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওজন কমাবে

শরীরে মেদ জমলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা পিছু নিতে পারে। তবে নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ লাউ খেলে খিদে কম লাগে। আর কম খেলেই কমবে ওজন। তাই ওজন বেশি থাকলেও নিয়মিত লাউ খেতে হবে।