পার্থিব জীবনের ধোঁকায় পড়লে যে বিপদ হবে

পার্থিব জীবনের ধোঁকায় পড়লে যে বিপদ হবে

প্রতিকী ছবি

দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের সৎকর্মগুলো ছাড়া মুমিনের সব সম্বল একদিন শেষ হয়ে যাবে। জীবন বাতি নিভে যাওয়ার পর ঈমান ও নেক আমল বান্দাকে চিরস্থায়ী সুখের জান্নাতে প্রবেশ করাবে। অন্যদিকে যারা পার্থিব জীবনের মোহে পড়ে পরকালের জন্য কিছুই জমা করেনি, তারা মৃত্যুর পর একূল-ওকূল সবকূল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের সঙ্গী হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি আপনার (রাসুল স.) আগে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে রাসুল প্রেরণ করেছি, অতঃপর শয়তান তাদের কর্ম শোভনীয় করে দেখিয়েছে। আজ সে-ই তাদের অভিভাবক এবং তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা নাহল: ৬৩)

আসলে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে মধুময় করে মানুষের সামনে উপস্থাপন করে শয়তান। ফলে যাদের ঈমান দুর্বল, তারা সৎপথ থেকে দূরে সরে যায়। এরকম বহু জাতির ধ্বংসের ঘটনা পবিত্র কোরআনে তুলে ধরা হয়েছে। এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (স্মরণ করো) ‘আদ ও সামুদ (জাতির) কথা, তাদের বাড়িঘর হতেই তাদের (করুণ পরিণতি) সম্পর্কে সুস্পষ্টরূপে তোমাদের জানা হয়ে গেছে। তাদের কাজগুলোকে শয়তান তাদের দৃষ্টিতে মনোমুগ্ধকর করেছিল। যার ফলে সৎপথে চলতে তাদেরকে বাধা দিয়েছিল, যদিও তারা ছিল তীক্ষ্ণ দৃষ্টির অধিকারী।  (সুরা আনকাবুত: ৩৮)

সাবা জনপদের অধিবাসীদের শয়তান চাকচিক্যে ফেলে শিরক করিয়েছিল। যেমন—হুদহুদ পাখি বলেছিল, ‘আমি তাকে (রানি বিলকিস) ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করছে। শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যাবলি সুশোভিত করে দিয়েছে। অতঃপর তাদের সত্পথ থেকে নিবৃত্ত করেছে। অতএব তারা সত্পথ পায় না।’ (সুরা নমল: ২৪)

যুগে যুগে মানুষকে শয়তান দুনিয়ার সৌন্দর্য ও চাকচিক্যের প্রতি আকৃষ্ট করে এবং বিভিন্ন পাপে লিপ্ত করে। আসলে শয়তান আল্লাহর কাছেই ওয়াদা করে এসেছিল যে, মানুষকে দুনিয়ার চাকচিক্যে ফেলে গোমরা করবে। সেটাই করে যাচ্ছে সে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সে বলল, হে আমার পালনকর্তা! আপনি যেমন আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করব। তবে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদের ছাড়া।’ (সুরা হিজর: ৩৯-৪০)

উল্লেখিত আয়াত অনুযায়ী, একনিষ্ঠ বান্দা না হওয়ার কারণেই আমরা প্রতিনিয়ত দুনিয়ার প্রেমে ডুবে আছি। দুনিয়ার সম্পদের প্রতি লালায়িত হয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছি। অন্যায়, জুলুম করছি। এমনকি সম্পদের জন্য হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করছি না। আমাদের উদ্দেশেই আল্লাহ বলেন, ‘হে মানুষ, তোমরা জেনে রাখো আল্লাহর ওয়াদা নিশ্চিতরূপে সত্য। সুতরাং পার্থিব জীবন যেন তোমাদের ধোঁকায় ফেলে না রাখে।’ (সুরা ফাতির: ৫)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘এই পার্থিব জীবন ছলনাময়ী ও ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৮৫)। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘পার্থিব জীবন ক্রীড়া কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। পারলৌকিক জীবনই তো প্রকৃত জীবন যদি তারা জানত।’ (সুরা আনকাবুত: ৬৪)

যারা আখেরাত ভুলে দুনিয়ার নেশায় মত্ত, তারা দুনিয়াবি জীবনেও বেশি কিছু করতে পারার নিশ্চয়তা নেই। সেদিকে ইঙ্গিত করে নবীজি (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার সব চিন্তাকে একই চিন্তায় অর্থাৎ আখেরাতের চিন্তায় কেন্দ্রীভূত করেছে, আল্লাহ তার দুনিয়ার চিন্তার জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে যে ব্যক্তি যাবতীয় পার্থিব চিন্তায় নিমগ্ন থাকবে, সে যেকোনো উন্মুক্ত মাঠে ধ্বংস হোক, তাতে আল্লাহর কিছু আসে যায় না। (ইবনে মাজাহ: ২৫৭)

অন্য বর্ণনায় আছে, আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করো, আমি তোমার অন্তর ঐশ্বর্যে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব দূর করে দেব। তুমি তা না করলে আমি তোমার দুই হাত কর্মব্যস্ততায় পরিপূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব-অনটন রহিত করব না। (তিরমিজি: ২৪৬৬)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সাবধান হওয়ার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার ধোঁকা সম্পর্কে সঠিক বোধ দান করুন। চিরস্থায়ী ঠিকানা আখেরাতের জন্য বেশি বেশি আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।