প্লাস্টিকের বিনিময়ে তেল-চাল-ডিম পেলেন ৩৫০ জন
ফাইল ছবি
কক্সবাজারের কলাতলীতে প্লাস্টিকের বিনিময়ে ৩৫০ জনকে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার দেওয়া হয়েছে। সোমবার জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এ উদ্যোগ নেয়।
বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবক মুহাম্মদ মোবারক জানান, প্লাস্টিকের বিনিময়ে বাজার কর্মসূচি বিকেল পর্যন্ত চলে। এতে দরিয়ানগরের ৩৫০ জন দুস্থ অধিবাসী প্লাস্টিকের বিনিময়ে বাজার করতে পেরেছেন। এখান থেকে প্রায় তিন টনের বেশি প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত প্লাস্টিক সমূহ শতভাগ রিসাইকেল করার জন্য দেশের স্বনামখ্যাত রিসাইকেল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগরে প্রাইমারি স্কুলের মাঠে বিশাল একটি সুপারশপ বসিয়ে চাল, ডিম, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পসরা সাজানো হয়। মানুষ প্লাস্টিকের বিনিময়ে এসব কিনতে পারছে। এক কেজি প্লাস্টিকের দাম ২০-৩০ টাকা হলেও এ বাজারে এক কেজি প্লাস্টিকের মূল্য ৫০-৮০ টাকা ধরা হয়। এক কেজি প্লাস্টিক দিয়ে এক কেজি চাল যেমন পাওয়া যাচ্ছে তেমনি ছয়টি ডিম দেওয়া হয় মাত্র এক কেজি প্লাস্টিকে! ১৯টি পণ্য থেকে নিজেরা বাছাই করে কেনার স্বাধীনতা পায় মানুষ।
গত ৩ মাস ধরে দেশব্যাপী ‘প্লাস্টিকের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচি চালিয়ে আসছে বিদ্যানন্দ। গত ৭ নভেম্বর থেকে কক্সবাজারের সুগন্ধা ও সিগ্যাল পয়েন্টে ৪ মাসের জন্য জেলা প্রশাসন কক্সবাজার ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন চালু করেছে ‘প্লাস্টিক বিনিময় স্টোর’, যেখানে পর্যটকরা ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমা দিলেই পাচ্ছেন উপহার।
এছাড়া গত ৪ ডিসেম্বর প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কক্সবাজার সুগন্ধা সমুদ্র সৈকতে নির্মিত ‘প্লাস্টিক দানব’ প্রদর্শনীর জন্য উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।