শীতের সকালে হাঁটতে মারাত্মক ঝুঁকি, নতুন তথ্য বিশেষজ্ঞদের
ফাইল ছবি
শীতের সকালে হাঁটতে বের হওয়া অনেকেই পছন্দ করেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময় বায়ু দূষণ বেশি থাকলে সেটা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,বায়ু দূষণ বলতে, বায়ুতে ক্ষতিকর উপাদান যেমন PM2.5, PM10, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি। এই দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত কণার কারণে বায়ু দূষণ বেড়ে যায়। শীতল আবহাওয়া ও কম বাতাসের কারণে দূষণ দীর্ঘসময় ধরে থাকে, যা ধোঁয়াশা বা স্মগ তৈরি করে। এই সময়ের মধ্যে হাঁটা, বিশেষ করে হাঁপানি বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
সকালে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, দূষণের পরিমাণ বেশি থাকে। ঠান্ডা আবহাওয়া ও কম বাতাস দূষিত কণাগুলো মাটির কাছে আটকে রাখে, যার ফলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু, বয়স্ক এবং যাদের পূর্বে স্বাস্থ্য সমস্যা আছে, তারা এই সময়ের মধ্যে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
দূষণ থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ:
যদি দূষিত বাতাসের মধ্যে হাঁটতে চান, তবে কিছু সতর্কতা অনুসরণ করা উচিত:
- AQI চেক করুন: হাঁটতে যাওয়ার আগে বায়ু মান সূচক (AQI) চেক করুন। ১০০-এর বেশি AQI অস্বাস্থ্যকর এবং ২০০-এর বেশি অত্যন্ত ক্ষতিকর।
- সঠিক সময় বেছে নিন: সকাল ও সন্ধ্যায় দূষণের পরিমাণ বেশি থাকে, তবে দুপুরে হাঁটলে তা নিরাপদ হতে পারে।
- মাস্ক ব্যবহার করুন: উচ্চমানের মাস্ক (যেমন N95) পরুন যা সূক্ষ্ম কণাগুলোকে ফিল্টার করতে পারে।
- এলাকা নির্বাচন করুন: ব্যস্ত রাস্তায় হাঁটা এড়িয়ে চলুন। সবুজ উদ্যান বা পার্কে হাঁটতে গেলে দূষণের প্রভাব কম হতে পারে।
- সময়ের সীমা রাখুন: দীর্ঘসময় দূষিত বাতাসে থাকার চেষ্টা করবেন না।
- অন্য বিকল্প বেছে নিন: ঘরে ব্যায়াম করুন, যেমন যোগব্যায়াম, ট্রেডমিল বা জিমে যোগ দিন।
- পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন: দূষণজনিত ক্ষতি কমাতে ফল, সবজি ও গ্রিন টি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
- পোশাক পরিষ্কার রাখুন: হাঁটার পর কাপড় পরিষ্কার করে স্নান করুন।
সকালে হাঁটা সাধারণত স্বাস্থ্যকর হলেও, দূষণের সময় তা বিপজ্জনক হতে পারে। এই সময় স্বাস্থ্যের সুরক্ষা প্রথম priority হওয়া উচিত। বায়ুর মান বুঝে এবং সতর্কতা অবলম্বন করে সক্রিয় জীবনযাপন বজায় রাখা সম্ভব তবে এটি সাধারণ তথ্য এবং চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আরো তথ্যের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।