অনবরত হাঁচি? ওষুধ ছাড়া থামানোর উপায় জানুন

অনবরত হাঁচি? ওষুধ ছাড়া থামানোর উপায় জানুন

ফাইল ফটো

গরমে বেড়ে যায় সর্দি-ঠাণ্ডার সমস্যা। এছাড়া পরিবেশ দূষণের কারণেও অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। ধুলাবালি, পরাগরেণু, ঠান্ডা লাগা, অ্যালার্জি— সব কারণেই হাঁচির সমস্যা দেখা দেয়। সারাদিনে দুই একবার হাঁচি হলে সমস্যা নেই। কিন্তু এই সমস্যা যদি অবিরাম চলতে থাকে তাহলেই সমস্যা। ঘুম থেকে কাজ, রাস্তা দিয়ে হাঁটা কিংবা দৈনন্দিন যেকোনো কাজের ব্যাঘাত ঘটতে পারে হাঁচির কারণে। 

হাঁচি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। নাকের ভেতর কোনো উত্তেজক বস্তু ঢুকলে শরীর সেটিকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাই প্রথমেই বোঝা জরুরি, সমস্যার কারণ কী। ঠান্ডা লেগে, না কি অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হিসেবে কী কারণে হাঁচি হচ্ছে সেটা জানা গেলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া যায়। 

অনবরত হাঁচি আসলে কি করবেন? কিছু ঘরোয়া উপায় কাজে লাগিয়ে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই- 

১. গরম ভাপ: 

নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া বা বার বার হাঁচির মতো সমস্যায় আরাম মেলে গরম পানির ভাপ নিলে। অনেকসময় ডিহাইড্রেশনের কারণে শ্লেষ্মা ঘন হয়ে যায় এবং সাইনাস ও নাকের বায়ুপথ বন্ধ করে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে গরম বাষ্পের সংস্পর্শে এলে নাকের ভেতরে জমা শ্লেষ্মা নরম হয়, শুষ্ক ভাব করে। শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। গরম পানি দিয়ে গোসল করলেও উপকার মিলতে পারে। কমতে পারে হাঁচির সমস্যা। 

২. জিঙ্ক: 

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে জিঙ্ক। রাইনোভাইরাসের বংশবৃদ্ধি আটকে দিয়ে প্রতিরোধ তৈরি করে এই খনিজ। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিয়মিত জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন। এতে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে জল পড়া, হাঁচি ইত্যাদির সমস্যা কমে যাবে।

৩. ভিটমিন সি: 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে মজবুত করত সক্ষম ভিটামিন সি। এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যই ভালো রাখে। রোগের কারণে যদি কোষের ক্ষয় হয়, তাহলে ফ্রি র‌্যাডিকাল তৈরি হয়ে শরীরে প্রদাহ শুরু হয়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারগুলো ফ্রি র‌্যাডিকালের সঙ্গে লড়াই করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

৪. গরম সেঁক: 

নাক বন্ধ, হাঁচি, সাইনাসের সমস্যা ইত্যাদি থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেতে ভরসা রাখতে পারেন গরম সেঁকে। গরম ভাপের মতো সেঁক দিলেও উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে শ্লেষ্মা নরম হয়। একটি তোয়ালে গরম পানিতে ডুবিয়ে, ভালো করে নিংড়ে নিয়ে সেঁক দিতে পারেন মুখে। তাতে আরাম মিলতে পারে।

৫. বিশ্রাম: 

অনেকসময় কেবল বিশ্রামেই এসব অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। ক্লান্ত শরীরে অ্যালার্জেন বা আবহাওয়ার পরিবর্তন দ্রুত প্রভাব ফেলে। দেহে সংক্রমণের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশ্রাম জরুরি। ঘুমালে কোষ মেরামত হয়, শরীর মজবুত হয়। তাই বিশ্রাম নিলে হাঁচির সমস্যা কমতে পারে। 

৬. আদা ও মধু: 

আদায় থাকা প্রদাহরোধী উপাদান (জিঞ্জেরল এবং শোগায়োল) গলা ও নাকের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ধুলাবালি ও অ্যালার্জির কারণে সৃষ্ট হাঁচি ও সর্দি কমাতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিহিস্টামিনেরর কাজ করে মধু। হালকা গরম পানিতে আদা ও মধু মিশিয়ে খেলে আরাম পান অনেকেই।

৭. তরল খাবার: 

শরীরে পানির ঘাটতি হলেও নাক ও গলার ভেতরের অংশ শুকিয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত পানি খাওয়া জরুরি। ডাবের পানি, পাতলা স্যুপ বা গরম ভেষজ চা-ও উপকারী হতে পারে। ফলে নাকের ভেতরের অংশ আর্দ্র হয় এবং সংক্রমণের প্রভাব কমায়।