শরীর ফিট রাখতে সকালে ঘুম থেকে উঠে যা করবেন

শরীর ফিট রাখতে সকালে ঘুম থেকে উঠে যা করবেন

ফাইল ছবি

সারারাত ঘুমের পর সকালে উঠে লেগে পড়তে হয় কাজে। আর সকালে ঘুম থেকে উঠে কাজের আমেজ তৈরি করাটা খুব জরুরি। দিনের শুরুটা সুন্দর হলে সারাদিনই ভালো কাটে। বিশেষ করে শরীরর সব কার্যপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা খুবই জরুরি।

আর তাই খুব সকালে উঠুন এবং ৯টার আগে ঘুম থেকে উঠে কয়েক মিনিট রোদের আলোতে বসুন। প্রাকৃতিক রশ্মি সার্কাডিয়ান ছন্দে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা মনমেজাজ ভালো রাখতে পারে।

এ ছাড়া সকালের রোদ ভিটামিন ‘ডি’একটি ভালো উৎস। ভিটামিন ‘ডি’ যকৃত ভালো রাখে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। শরীর ফিট রাখতে সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। 
নিচে কিছু কার্যকর পরামর্শ দেওয়া হলো-

(১) পানি পান করুন: ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করুন। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি উন্নত করে। যেহেতু ঘুমানোর কারণে দীর্ঘ সময় পানি পান করা হয় না তাই সকালে উঠে পানি পান করলে শরীরের উপকার হয়। এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে নিলে ভালো হয়। লেবুতে ভিটামিন ‘সি’ যকৃতের কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

(২) হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করুন: সকালে ১০-১৫ মিনিটের হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং শরীরকে চাঙ্গা রাখে। যোগব্যায়াম বা জগিং করতে পারেন। এবার ৫ থেকে ১০ মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে ধ্যান করুন। এরপর হালকা ব্যায়াম করার ফলে শরীরে কর্মতৎপরতা আসে। হতে পারে যোগাসন বা সাধারণ কিছু ওয়ার্ক আউট, যা শরীরের রক্ত চলাচলকে প্রভাবিত করবে এবং ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করবে।

(৩) শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করুন (প্রাণায়াম): শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ কমাতে এবং শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এতে শরীরে অক্সিজেনের প্রবেশ সহজ হয়। শরীরে অক্সিজেন ভালোভাবে পৌঁছানোর ফলে কোষের কাজ ভালোভাবে চলে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হওয়ার কাজ সহজ হয়ে যায়।

(৪) প্রাকৃতিক আলোতে কিছু সময় কাটান: সকালের সূর্যের আলোতে কিছুক্ষণ থাকুন। ভিটামিন ডি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। মেজাজ ভালো রাখতে সূর্যের আলো সেরোটোনিন নামক হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়, যা আমাদের শরীরকে ভালো রাখে। সূর্যের আলো শরীরের সার্কাডিয়ান রিদমকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে সহায়তা করে। আবার এটি হাড় ও ইমিউন সিস্টেম মজবুত করতে সাহায্য করে ও প্রাকৃতিক আলোতে চোখের মানসিক চাপ কমে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে। যদি সম্ভব হয়, দিনে অন্তত ১৫-৩০ মিনিট প্রাকৃতিক আলোতে হাঁটাহাঁটি করুন। এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হতে পারে।

(৫) সকালে স্বাস্থ্যকর খাবার খান: প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটমুক্ত সকালের খাবার খান। আর সকালের খাবার সারাদিন শরীরে শক্তি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সকালে ফাইবারজাতীয় খাবারকে প্রাধান্য দিতে হবে যেমন-ডিম, ওটস, চিয়াবীজ ও তাজা ফল বা সবজি খেতে হবে। ফাইবার হজমের সময়ে শরীরের টক্সিনগুলোকে জড়িয়ে নেয়। এ ছাড়া পেটে কার্যকর ভালো ব্যাকটেরিয়ার কর্মক্ষমতা বাড়ায় এই ফাইবার জাতীয় খাবারে।

(৬) ইচ্ছাশক্তি বাড়ানোর জন্য কিছু পড়ুন বা মেডিটেশন করুন: সকালে ইতিবাচক চিন্তা করতে মেডিটেশন বা একটি প্রেরণাদায়ক বই পড়তে পারেন। এই অভ্যাসগুলো প্রতিদিন মেনে চললে শরীর ও মন দুই-ই সুস্থ থাকবে।