নোয়াখালীতে বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ২৬

নোয়াখালীতে বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ২৬

সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর সদর উপজেলার বাঁধেরহাট এলাকায় বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. সেলিমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৫ থেকে ৬ জন নেতাকর্মী আহত হন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আকবর হোসেন সোহাগ, শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হৃদয় ও মোহাম্মদ রবিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে শুক্রবার বিকেলে বাঁধেরহাট এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির নেতাদের দাবি, ওই মিছিলের মাধ্যমে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল। এর প্রতিবাদে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে শনিবার বিকেলে বাঁধেরহাট বাজারে বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আমাদের বহরে থাকা প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলের মধ্যে ১৪ থেকে ১৫টি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং ৪ থেকে ৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে হামলার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বাঁধেরহাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান। ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, হামলার ঘটনায় বিএনপির পাশাপাশি এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকজন এনসিপি নেতাকর্মী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন রয়েছেন।

অন্যদিকে, এ ঘটনার পর সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা শুরু হলেও পুলিশ বলছে, এটি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ওসির পরিবর্তন নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়ার অংশ, এর সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।